রেললাইনে বিপদ টের পেয়েই তৎপরতা! বড় দুর্ঘটনা রুখে খড়্গপুরে পুরস্কৃত ৫ রেলকর্মী!

রেললাইনে বিপদ টের পেয়েই তৎপরতা! বড় দুর্ঘটনা রুখে খড়্গপুরে পুরস্কৃত ৫ রেলকর্মী!

নিজস্ব সংবাদদাতা : উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কর্তব্যনিষ্ঠার জেরে একাধিক সম্ভাব্য বড় রেল দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই অসাধারণ তৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের পাঁচ চালক ও রেলকর্মীকে বিশেষ আর্থিক পুরস্কার এবং প্রশংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করলেন খড়্গপুর ডিভিশনের ডিআরএম ললিত মোহন পান্ডে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ আগস্ট রাতে বেটনটি ও ভঞ্জপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ৬৮১৭৩ নম্বর ট্রেনটি যাওয়ার সময় অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি অনুভব করেন মোটরম্যান চন্দ্রকান্ত কুমার এবং সিনিয়র এএলপি নরেশ কুমার বৈরওয়া। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মোটরম্যান সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। পরে রেলকর্মীরা পরীক্ষা করে দেখতে পান, লাইনের পাশের রেলের বাঁধে ধস নেমে ‘ব্যাঙ্ক স্লিপ’ তৈরি হয়েছে। চালকদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।অন্য একটি ঘটনা ঘটে গত ২৬ জুলাই। ১২৮২২ নম্বর ধৌলি এক্সপ্রেসে ফুটপ্লেটিং করার সময় সিএলআই সুভাষ চন্দ্র সুবুধি মার্কোনা স্টেশনের কাছে একটি কোচ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে এনে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কোচটি ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়।এছাড়াও গত ২০ আগস্ট ২০৮৯৮ নম্বর রাঁচি-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালানোর সময় ট্রেনের মধ্যে অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি টের পান লোকো পাইলট কৌশিক মজুমদার এবং সিনিয়র এএলপি দিলশাদ আলম। দ্রুত ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে তাঁরা রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে খবর দেন। পরে ট্র্যাক পরীক্ষা করে লাইনের পাশের মাটিতে ধসের চিহ্ন পাওয়া যায়।একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই পাঁচ রেলকর্মীর দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সতর্কতার ফলে যাত্রীদের জীবন রক্ষা করার পাশাপাশি রেলের সম্পত্তিও বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচেছে।খড়্গপুর ডিভিশনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ডিআরএম ললিত মোহন পান্ডে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মীকে সম্মানিত করেন। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ আর্থিক পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র। ডিআরএম বলেন, রেলকর্মীদের এমন তৎপরতা, সতর্কতা এবং কর্তব্যনিষ্ঠা শুধু বহু যাত্রীর জীবন রক্ষা করে না, রেলের বিপুল সম্পদও সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা অন্য কর্মীদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।