Skip to content

নীলাচল পাহাড়ে আধ্যাত্মিকতার মহাসমুদ্র, শুরু হল কামাখ্যার অম্বুবাচী মেলা!

নিজস্ব সংবাদদাতা: অসমের গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে সোমবার থেকে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী অম্বুবাচী মেলা। সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগামী তিন দিন ও তিন রাত মন্দিরে দর্শন বন্ধ থাকবে। ২৬ জুন সূর্যোদয়ের পর অম্বুবাচীর নিবৃত্তি হবে এবং দেবীর স্নান ও নিত্যপূজা সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মন্দিরের দ্বার। এরপর থেকেই ভক্তরা পবিত্র রক্তবস্ত্র প্রসাদ গ্রহণ করতে পারবেন। অসম সরকার ও কামাখ্যা মন্দির পরিচালনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই চার দিনব্যাপী ধর্মীয় উৎসব দেবী কামাখ্যার বার্ষিক ঋতুচক্রকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। সৃষ্টিশক্তি ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত অম্বুবাচী মেলায় এ বছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখেনি প্রশাসন। অসম পর্যটন দফতর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় প্রায় ৪.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সমস্ত পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। পুরনো জেল প্রাঙ্গণ, বরিপাড়া খেলার মাঠ এবং কামাখ্যা রেল স্টেশনে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ৫০ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী থাকতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে এ বছরের অম্বুবাচী মেলায় কোনও ভিআইপি বা ভিভিআইপি সুবিধা রাখা হয়নি। প্রশাসনের দাবি, সামাজিক বা প্রশাসনিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল ভক্তকে একই সারিতে দাঁড়িয়ে সমানভাবে দর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মন্দির ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০-রও বেশি স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মেলা উপলক্ষে অতিরিক্ত ১০০-রও বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। নীলাচল পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় বায়ো-টয়লেট, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও জারি হয়েছে একাধিক নির্দেশিকা। আদাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এবং বরিপাড়া মাঠে বিশেষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন নীলাচল পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পুরো রাস্তা নো-পার্কিং জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশ, জরুরি পরিষেবার গাড়ি এবং গুয়াহাটি পুরনিগমের যানবাহন ছাড়া কোনও ব্যক্তিগত গাড়িকে পাহাড়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী যানবাহন শুধুমাত্র রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নীলাচল পাহাড়ের পাদদেশে বিশেষ জুতো রাখার স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। মন্দিরমুখী পথজুড়ে কার্পেট বিছানো হবে, যাতে খালি পায়ে ভক্তদের চলাচলে কোনও অসুবিধা না হয়। এছাড়াও সন্ধ্যা ৬টার পর কোনও দর্শনার্থীকে মন্দিরমুখী পথে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না।

প্রবীণ নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম ভক্ত, সরকারি আধিকারিক এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ভরলুমুখের সোনারাম মাঠ থেকে বিনামূল্যে ফেরি পরিষেবাও চালু করা হয়েছে।ভক্তদের বিশ্বাস, এই কয়েকটি দিন দেবী কামাখ্যার আশীর্বাদ লাভের এক বিশেষ সময়। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও নীলাচল পাহাড়ে আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য আবহ তৈরি হয়েছে।

Latest