Skip to content

ডেল স্টেনকে দেখে স্বপ্ন, ইরফান পাঠানের ছোঁয়ায় আইপিএলে ঝড়— ৮.৪ কোটির দিল্লির আকিব নবি এখন চর্চার কেন্দ্র!

আকিব নবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন আইপিএল মরশুমে তরুণ ক্রিকেটারদের দিকে নজর থাকলেও, সব আলো কেড়ে নিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের উদীয়মান পেসার আকিব নবি। দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে ৮.৪ কোটি টাকায় দলে টেনে নিয়েছে, যা এবারের মরশুমে অন্যতম চর্চিত চুক্তি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্সের জোরে উঠে আসা এই কাশ্মীরি পেসার এখন দেশের ক্রিকেটমহলে অন্যতম আলোচিত নাম। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের লড়াইয়ের গল্প শোনাতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে ওঠেন আকিব। তিনি জানান, ছোটবেলায় পরিবারের তরফে ক্রিকেটের জন্য খুব বেশি সমর্থন পাননি। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু টেলিভিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার Dale Steyn-এর আগুনঝরা বোলিং দেখে তাঁর মনে জন্ম নেয় ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্ন।

আকিবের কথায়, “ছোটবেলায় ডেল স্টেনের বোলিং মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। ওর গতি আর সুইং আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছিল। তখন থেকেই ভাবতাম, একদিন আমিও ভারতের জার্সিতে খেলব।” তাঁর ক্রিকেটজীবনের আসল মোড় ঘোরে ২০১৮ সালে। সেই সময় জম্মু-কাশ্মীর দলের মেন্টর হয়ে আসেন প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার Irfan Pathan। তখন অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলছিলেন আকিব। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নজরে আসে পাঠানের, আর সেখান থেকেই খুলে যায় সিনিয়র দলের দরজা। আকিব বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হই। কিন্তু ইরফান ভাই আসার পর আমার ক্রিকেটজীবন নতুন দিশা পায়। উনি শুধু সুযোগই করে দেননি, নিয়মিত টিপস দিয়ে আমাকে গাইড করেছেন।” ইরফান পাঠানও আকিবকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীরের শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন আকিব। পাঠান বলেন, “২০১৮ সালে প্রথম ওকে দেখি। আমরা ৮-১০ জন পেসারের শক্তিশালী গ্রুপ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। আকিব সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দীর্ঘ স্পেলে বল করতে পারে, আর শেষ মুহূর্তে বল মুভ করানোর ক্ষমতা ওর বড় শক্তি।”

পাঠান আরও জানিয়েছেন, Jasprit Bumrah এবং Mohammed Shami-র মতোই আকিবের সিম পজিশন অত্যন্ত নিখুঁত। ঘণ্টায় ১৪০ কিমি গতির নিচে থেকেও তাঁর সুইং ও লাইন-লেন্থ ব্যাটারদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। স্টাম্পের কাছ থেকে বল করা, ধারাবাহিক আউটসুইং, আর হঠাৎ ইনসুইং—এই বৈচিত্রই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কেন দিল্লি ক্যাপিটালস এত বড় অঙ্ক খরচ করেছে। ১৭ ইনিংসে ৫৮ উইকেট, যার মধ্যে ৬ বার পাঁচ উইকেট—এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই তাঁকে আইপিএলের আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঘরোয়া মরশুমে তিনি ৬০ উইকেটও পূর্ণ করেন এবং জম্মু-কাশ্মীরকে ঐতিহাসিক সাফল্যের পথে এগিয়ে দেন।

Latest