আহমেদ হুছেইন লস্কর,আসাম : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক স্তরের পরীক্ষার ফল প্রকাশে অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালুর প্রতিবাদে সরব হলো ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও (AIDSO)। শুক্রবার শিলচরের ডিমাসা সাংস্কৃতিক ভবনে সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বরাক উপত্যকা ভিত্তিক ছাত্র অভিবর্তন।সভায় সভাপতিমণ্ডলীর দায়িত্বে ছিলেন এআইডিএসও-র আসাম রাজ্য কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি স্বাগতা ভট্টাচার্য এবং রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক ও করিমগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্ল। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা এই অভিবর্তনে অংশগ্রহণ করেন।অভিবর্তনে মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সঞ্চিতা শুক্ল। প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক পল্লব ভট্টাচার্য। পরে বিভিন্ন কলেজ ও গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ তুলে ধরেন।দীর্ঘ আলোচনার পর সভায় পাঁচ দফা দাবি গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছে— স্নাতক পরীক্ষার ফল প্রকাশে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, ‘মেজর’ বিষয়সহ উত্তীর্ণ ছাত্রদের সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ করা, তিন বছরের স্নাতক কোর্স সম্পন্নকারীদের জন্য পর্যাপ্ত স্নাতকোত্তর আসন সৃষ্টি, পূর্বের মতো তিন বছরের স্নাতক কোর্স চালু রাখা এবং চার বছরের ডিগ্রি কোর্সকে বাধ্যতামূলক না করে ঐচ্ছিক হিসেবে চালুর ব্যবস্থা করা।এই দাবিগুলির সমর্থনে আগামী দিনে বিভিন্ন কলেজে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।সভায় বরাক উপত্যকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সমস্যাও গুরুত্ব পায়। উল্লেখযোগ্য নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও বহু ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই সমস্যা সমাধানের দাবিতে তিন জেলার শিক্ষা-দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাছাড় জেলা কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আয়ুক্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে বিশেষ করে কাছাড় কলেজের কমার্স বিভাগের ভর্তি সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভের সুর, এআইডিএসও-র ছাত্র অভিবর্তনে তীব্র ক্ষোভ!