Skip to content

হুল দিবসে মুকুটমণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সিধু-কানুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জনজাতি উন্নয়নে বার্তা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : হুল দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে অনুষ্ঠিত রাজ্যস্তরের প্রধান অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম বাঁকুড়া জেলা সফর। অনুষ্ঠানে তিনি সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর শহিদ সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলো, ঝানো এবং বীরসা মুন্ডা-র প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে জনজাতি সম্প্রদায়ের বিপুল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন জনজাতি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খুদিরাম টুডু, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত-সহ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার একাধিক বিধায়ক এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।

মুকুটমণিপুরের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮৫৫ সালের হুল বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে জনজাতি সমাজের ঐতিহাসিক সংগ্রাম। তাঁর কথায়, এই আন্দোলন শুধু স্বাধীনতার লড়াইয়ের অন্যতম ভিত্তি নয়, বরং জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যার প্রাসঙ্গিকতা আজও সমানভাবে বিদ্যমান।জনজাতি সমাজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী-র আমলেই সাঁওতালি ভাষা ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হয়, যার মাধ্যমে ভাষাটি সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জনজাতি আন্দোলনের ফলস্বরূপ বাজপেয়ী সরকারের সময়েই ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠিত হয়।

হুল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠান জনজাতি সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্য তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

Latest