নিজস্ব সংবাদদাতা : সাধারণত জন্মদিন মানেই কেক, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ আর নিজের মতো করে একটি ছোট্ট উদযাপন। কিন্তু অনেক সময় কিছু মানুষ সেই পরিচিত আনন্দের গণ্ডি ভেঙে জন্মদিনকে অন্য এক মানবিক অর্থ দেন। বীরভূমের তরুণ লেখক ও সমাজমনস্ক যুবক দেবরাজ সাহা ঠিক তেমনই এক উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। নিজের জন্মদিনকে ব্যক্তিগত আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে তিনি তুলে দিলেন মানবতার এক উষ্ণ বার্তা।নিজের জন্মবার্ষিকীর দিন দেবরাজ সাহা পৌঁছে যান ছবির স্বপ্নপুরী বৃদ্ধাশ্রমে। সঙ্গে ছিল একটি কেক, কিছু খাবার এবং আন্তরিক ভালোবাসা ভরা একটি মন। সেখানে থাকা প্রবীণ মায়েদের সঙ্গে মিলেই তিনি কাটান এই বিশেষ দিন।বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের সামনে কেকটি রাখা হলে অনেকের চোখে ফুটে ওঠে বিস্ময়, কারও মুখে দেখা যায় লাজুক হাসি।

যেন দীর্ঘদিন পর কেউ এসে তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কেক কাটার পর দেবরাজ একে একে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের হাতে কেক তুলে দেন। এরপর শুরু হয় গল্পের আসর—কেউ শোনান তাঁদের ছোটবেলার স্মৃতি, কেউ বলেন সংসারের হারিয়ে যাওয়া দিনের কথা।দেবরাজ মন দিয়ে সেই সব গল্প শোনেন—একজন লেখকের মতো, আবার যেন একজন সন্তানের মতো মায়ের কথা শুনছেন। সেই মুহূর্তে জন্মদিনের কেক আর শুধু কেক থাকেনি, হয়ে উঠেছিল সম্পর্ক ও ভালোবাসার এক ছোট্ট সেতু। বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মুখে যে হাসি ফুটে উঠেছিল, সেটিই যেন এই দিনের সবচেয়ে বড় উপহার।জানা গেছে, এ বছর নিজের জন্মদিন উপলক্ষে দেবরাজ সাহা টানা তিন দিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করেন। এর মধ্যে ছিল বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষা শিবির এবং পথবাসী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের মধ্যে অন্ন বিতরণের উদ্যোগ।অনেক সময় বড় কাজের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না—প্রয়োজন হয় শুধু একটি সহানুভূতিশীল মন। দেবরাজ সাহার এই উদ্যোগ সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিল। কারণ জন্মদিন শুধু নিজের জীবনের আরেকটি বছর পূর্ণ হওয়ার দিন নয়, কখনও কখনও সেটি হয়ে উঠতে পারে অন্যের জীবনে একটু আনন্দ ও আলো পৌঁছে দেওয়ার উপলক্ষও।