সেখ ওয়ারেশ আলী : ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল ২৩শে জুন মঙ্গলবার। বিকেলে মেদিনীপুরে ডিভিশনাল কমিশনারের দফতরে গিয়ে লিখিত আবেদন জমা দিলেন জেলা পরিষদের তৃণমূল কংগ্রেসের ১৩ জন বিদ্রোহী কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য। সূত্রের খবর, জেলা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করতেই এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের মোট ১৯ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন একজোট হয়ে স্বাক্ষর-সম্বলিত আবেদনপত্র ডিভিশনাল কমিশনারের হাতে তুলে দেন। এই পদক্ষেপের পর জেলা পরিষদের বর্তমান ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তবে আবেদন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিদ্রোহী শিবিরের সদস্যরা। তাঁরা কার্যত নীরবতা বজায় রাখলেও রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নিশীথ মাহাতোও। আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনিও সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে যান। তবে তাঁর একটি দার্শনিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নিশীথ মাহাতোর বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল, “সৃষ্টি যতই সুন্দর, শক্তিশালী বা স্থায়ী বলে মনে হোক না কেন, প্রকৃতির নিয়মে একদিন পরিবর্তন বা বিনাশ অবশ্যম্ভাবী।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তাঁর এই মন্তব্য নিছক দার্শনিক ভাবনা নয়; বরং জেলা পরিষদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।১৩ সদস্যের এই যৌথ পদক্ষেপের ফলে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।