নিজস্ব সংবাদদাতা : মানবিকতা,সাহস আর আত্মত্যাগের এক বিরল নজির গড়ে রেখে চলে গেল একাদশ শ্রেণির ছাত্র নাসিম মল্লিক। ছোট ছোট শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে গঙ্গার জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে একে একে সকলকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন আর রক্ষা করতে পারল না সে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিল নাসিম। সে স্থানীয় সারেঙ্গাবাদ স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ গঙ্গার ঘাট এলাকায় কয়েকজন কচিকাঁচা শিশু স্নান করতে নেমেছিল। জোয়ারের টানে হঠাৎই কয়েকজন শিশু তলিয়ে যেতে শুরু করে। এই দৃশ্য চোখে পড়তেই এক মুহূর্তও দেরি করেনি নাসিম। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গঙ্গার জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। একের পর এক শিশুদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে তুলে আনে। কিন্তু সকলকে বাঁচানোর পরই ঘটে বিপর্যয়। ক্লান্ত ও স্রোতের টানে নাসিম নিজেই জলের নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীতে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও। প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নাসিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন মা নাসিমা বিবি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “সকাল সাতটা নাগাদ স্কুলে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম স্কুলেই গেছে। কিন্তু সকাল ন'টার দিকে খবর পাই, অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলেটাই আর ফিরল না।”

এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “অনেকদিন ধরেই আমরা দেখছিলাম সকালে স্কুলপড়ুয়া ছেলেরা জেটি থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে স্নান করে। আমরা বারণও করতাম। আজ কয়েকজন ছোট ছেলে জোয়ারের টানে ডুবে যাচ্ছিল। তখনই নাসিম ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের বাঁচায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়।” নাসিমের এই অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ঘটনায় শোকাহত তার পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক এবং গোটা এলাকা। নিজের জীবনের কথা না ভেবে অন্যের প্রাণ রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়া এই কিশোরকে আজ ‘নায়ক’ বলেই সম্মান জানাচ্ছেন এলাকার মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, নাসিমের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।