বিশ্বকাপ অধরাই, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন CR7

বিশ্বকাপ অধরাই, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন CR7

নিজস্ব সংবাদদাতা :ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের প্রায় সমস্ত শিখরই ছুঁয়েছেন তিনি। একাধিক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ট্রফি, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং একাধিক ব্যালন ডি’অর—ব্যক্তিগত ও দলগত সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড। তবুও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফুটবলজীবনে একটি আক্ষেপ বারবার ফিরে এসেছে। সেটি হলো বিশ্বকাপ ট্রফি। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ারে একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিলেও বিশ্বসেরার মুকুট অধরাই থেকে গিয়েছে পর্তুগিজ মহাতারকার। সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানালেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। একটি ভিডিও পোস্ট করে রোনাল্ডো বলেন, “এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার কাছে সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে আমার যাত্রা শেষ হচ্ছে। পর্তুগালের জন্য নিজের সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। ৭ নম্বর জার্সি অন্য কেউ পরলেও সেই জার্সি গায়ে দেওয়ার গর্ব আমার কাছে চিরকাল থাকবে। পর্তুগালও সব সময় আমার হৃদয়ে থাকবে।”

২০০৩ সালে পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০০৪ সালের ইউরো কাপের ফাইনালে খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছয় পর্তুগাল। কিন্তু বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ২০১৬ সালে। ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে পর্তুগাল। যদিও ফাইনালে চোটের কারণে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল রোনাল্ডোকে।

এরপর ২০১৯ সালে প্রথমবার উয়েফা নেশন্স লিগ জেতে পর্তুগাল। ২০২৫ সালেও স্পেনকে হারিয়ে নেশন্স লিগের শিরোপা ঘরে তোলে দলটি। সেই ফাইনালেও গোল করে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছিলেন রোনাল্ডো।জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পরিসংখ্যানও অবিশ্বাস্য। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৪টি ম্যাচে ১৪৬টি গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার নজির গড়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবলার হলেও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন। ফলে ফুটবলবিশ্বে মেসি-রোনাল্ডো বিতর্কে বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে।রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা, কোচের সঙ্গে মতবিরোধ এবং দল নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই।বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি হাতে তোলার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n