নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলা চলচ্চিত্রে কি এবার আসতে চলেছে ‘শিখণ্ডী’? সাহিত্যপ্রেমী ও সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এমনই এক সম্ভাবনাকে ঘিরে।মহাভারতের অন্যতম আলোচিত চরিত্র শিখণ্ডী। জন্মসূত্রে নারী হলেও তার আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরুষ হয়ে ওঠার। দীর্ঘ সংগ্রাম, সামাজিক বাধা এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সে একসময় নিজের কাঙ্ক্ষিত পরিচয় অর্জন করেছিল। সেই পৌরাণিক চরিত্রের ভাবনাকে আধুনিক সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে এক ভিন্নধর্মী ক্রাইম থ্রিলার রচনা করেছেন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়।উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মিতু, কলকাতার নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের এক তরুণী। জন্মগতভাবে নারী হলেও তার মানসিক সত্তা নিজেকে পুরুষ হিসেবে দেখতে চায়। পরিচয় সংকট, সামাজিক চাপ এবং ব্যক্তিগত যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে এগোতে থাকা মিতুর জীবন এক সময় আত্মহত্যার মাধ্যমে থেমে যায়। কিন্তু সেই মৃত্যুই খুলে দেয় এক জটিল অপরাধচক্রের পর্দা। তদন্তের সূত্র ধরে সামনে আসতে থাকে সমাজের নানা অন্ধকার দিক।আধুনিক সময়ের মিতু এবং মহাভারতের শিখণ্ডীর জীবনের আশ্চর্য মিল-অমিলকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ‘শিখণ্ডী’ উপন্যাসের কাহিনি। বইটি প্রকাশের পরই টলিউডের একটি প্রখ্যাত প্রযোজনা সংস্থা এর চলচ্চিত্র স্বত্ব অধিগ্রহণ করেছে। ফলে খুব শিগগিরই এই জনপ্রিয় উপন্যাস বড় পর্দায় রূপ পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের আরেক জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘ত্রৈলোক্য’ নিয়েও ইতিমধ্যেই ওয়েব সিরিজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রে দক্ষিণী ছবির রিমেকের পরিবর্তে বাংলা সাহিত্যের মৌলিক গল্প ও চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার যে দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠছে, ‘শিখণ্ডী’-র সম্ভাব্য চলচ্চিত্রায়ন সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংস্কৃতি মহলের একাংশ।