নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্বফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দেশ ইতালি আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে অনুপস্থিত। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ফুটবল মহলে নেমে এসেছে তীব্র অস্থিরতা। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের ধাক্কা শুধু সমর্থকদের হতাশ করেনি, কাঁপিয়ে দিয়েছে ইতালির ফুটবল প্রশাসনের ভিতও। এরই জেরে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (FIGC) সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে দায়িত্ব ছেড়েছেন ইতালি দলের প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফোঁও। পরাজয়ের পর থেকেই গ্রাভিনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন সমর্থকরা। ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি প্রকাশ্যেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “ইতালির ফুটবলকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে শীর্ষস্তর থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হবে।” সেই রাজনৈতিক ও জনমতের চাপই শেষ পর্যন্ত গ্রাভিনাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমে তিনি ইস্তফার জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, বৃহস্পতিবার FIGC-র রোম সদর দফতরে জরুরি বৈঠকের পর পদত্যাগের ঘোষণা করেন।

সূত্রের খবর, আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে FIGC-র নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হবে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ইতালির ফুটবলে বড়সড় সংস্কারের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়, কোচিং ও টিম ম্যানেজমেন্টেও আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জোর জল্পনা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন ইতালির ফুটবল প্রতিনিধিদলের প্রধান ও বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফোঁ। তাঁর এই পদক্ষেপ ইতালির ফুটবল ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায়ের ইতি টানল। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তির বিদায় আজ্জুরিদের পুনর্গঠনের পথে আরও বড় বার্তা দিল বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। টানা তিন বিশ্বকাপে না খেলতে পারা ইতালির মতো দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ব্যর্থতা। এখন প্রশ্ন একটাই—নতুন নেতৃত্ব কি পারবে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে? নাকি ইউরোপের এক সময়ের ফুটবল সম্রাট আরও গভীর সংকটে ডুবে যাবে?