নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের আসন্ন ভোটের আগে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার পর অবশেষে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, খুব শিগগিরই তিনি আইএসএফে যোগ দিতে পারেন। ভোটের আগে তৃণমূলের অন্দরে ‘অভিমানী নেতার’ ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে সাসপেনশন ও বহিষ্কারের জেরে দলের সঙ্গে আরাবুল ইসলামের সম্পর্ক ক্রমশ শিথিল হয়েছে। একসময় ভাঙড়ের রাজনীতিতে দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সোমবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “আরাবুল ইসলামকে তাঁরা বুঝল না। পাঁচ বার কেস খেয়েছি, তিনবার বহিষ্কার হয়েছি। সেই কারণে মনের দুঃখে আজ তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।” তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিতর্ক এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তাঁর প্রভাব অনেকটাই কমে যায় বলে রাজনৈতিক মহলের মত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই আরাবুল ইসলামের সঙ্গে শওকত মোল্লার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়ার পরই ভাঙড়ের দলীয় পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। পর থেকেই দলে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন প্রাক্তন বিধায়ক।পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে শেষমেশ তিনি দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রশ্ন উঠছে—ইস্তফার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়?
যদিও এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ISF নেতা ও ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস আরাবুল ইসলামকে ব্যবহার করার পর এখন কার্যত সরিয়ে দিয়েছে। নওশাদ বলেন, “শাহজাহানের নাম এখন কি তৃণমূল আর উচ্চারণ করে? ওদের দলে এমন অনেক নেতা রয়েছেন, যাদের প্রয়োজন ফুরোলেই সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আরাবুল ইসলাম আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি। কিন্তু জেলা স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং আইএসএফে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।”