পটাশপুরে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের মৃত্যু, ‘তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর’-এর অভিযোগ তৃণমূলের
নিজস্ব সংবাদদাতা :প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের অস্বাভাবিক মৃত্যু পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে। মৃতের নাম বিজনবন্ধু বাগ। তিনি পটাশপুর-২ ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি কাঠের মিলে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার পটাশপুরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পিছনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ছ’–সাত জন ব্যক্তি বাইকে করে বিজনবন্ধুর বাড়িতে যান। অভিযোগ, তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে বাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কয়েক দফায় মারধর করে স্থানীয় একটি কাঠের মিলে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তদন্তে নামে পুলিশ এবং জখম অবস্থায় বিজনবন্ধুকে উদ্ধার করা হয়।প্রথমে তাঁকে এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত্যুর খবর পটাশপুরে পৌঁছতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন,‘‘বিজনবন্ধুকে বাইকবাহিনী বাড়ি গিয়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। প্রথমে কাঠের মিলে আটকে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে পঞ্চায়েত অফিস থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছিল। ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হলেও পরে তাঁদের ছেড়েও দেওয়া হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কেউ কেউ দাবি করছেন, টাকা নিয়ে অশান্তির জন্য এই ঘটনা। প্রাক্তন প্রধানের কাছে ১০ লক্ষ টাকা পান বলে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বলা হয়। কিন্তু এগুলো বানানো কথা। এখন যে কেউ গিয়ে আমাদের প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির নাম করে এই অভিযোগ করছেন। কেউ বলছেন টাকা নিয়ে ঠকিয়েছেন। কেউ বলছেন টাকা ফেরত পাননি। এই অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচার করা হচ্ছে না। আর বিজনবন্ধুর মৃত্যু পুরোপুরি রাজনৈতিক ঘটনা। বিজেপির সম্পূর্ণ ভূমিকা ছিল। কার নেতৃত্বে বলতে পারব না। সেটা পুলিশ দেখুক।’’অন্যদিকে, বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমনাথ রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত দিন বিজেপি কর্মীরাই হিংসার শিকার হয়েছেন। হিংসাকে কখনও তাঁরা আশ্রয় করেননি। আমাদের শ’য়ে শ’য়ে কর্মী শহিদ হয়েছেন। আর যাঁর কথা বলা হচ্ছে... মৃত্যু দুঃখজনক। কেউ এর সঙ্গে জড়িত হলে পুলিশ-প্রশাসন আছে। আইনি পথে তার শাস্তিবিধান হবে।’’পুলিশ সূত্রে খবর, বিজনবন্ধুর মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতাতেই মৃতের দেহের ময়নাতদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।