নিজস্ব সংবাদদাতা : ৮ই জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে পুণ্যতীর্থ গঙ্গাসাগর মেলা। তার আগেই প্রশাসনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার গঙ্গাসাগর পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় যুক্ত হচ্ছে একেবারে নতুন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি—‘ওয়াটার রেসকিউ ড্রোন’। প্রশাসনের দাবি, এই ড্রোন ডুবন্ত পুণ্যার্থীদের জন্য কার্যত জীবনদাত্রী হয়ে উঠতে পারে। মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান উপলক্ষে প্রতি বছর গঙ্গাসাগরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল নামে। এত বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রবল স্রোত ও ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই কারণেই এবছর উদ্ধার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে গঙ্গাসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে ‘ওয়াটার রেসকিউ ড্রোন’। এই বিশেষ ড্রোন অত্যাধুনিক সেন্সর ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা জলে ডুবে যেতে থাকা কোনও ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। শুধু তাই নয়, মুহূর্তের মধ্যেই সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করার ব্যবস্থাও রয়েছে ড্রোনটিতে। ফলে লাইফগার্ড, নৌকা ও ডুবুরি দলের পাশাপাশি এই ড্রোন যুক্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের উদ্যোগেই এই প্রযুক্তি গঙ্গাসাগরে আনা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অরবিন্দ মীণা জানান, আপাতত ড্রোনটি ট্রায়াল রান পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে গঙ্গাসাগরে স্নানের সময় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় এটি বড় ভূমিকা নেবে।” প্রশাসনের আশা, ভিড় ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এই আধুনিক প্রযুক্তি বহু অমূল্য প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে। গঙ্গাসাগর মেলায় ‘ওয়াটার রেসকিউ ড্রোন’-এর ব্যবহার শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে না, বরং আস্থা ও প্রযুক্তির সফল মেলবন্ধনের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
গঙ্গাসাগর মেলায় প্রযুক্তির যুগান্তকারী ছোঁয়া! ডুবন্ত পুণ্যার্থীদের রক্ষায় প্রথমবার ‘ওয়াটার রেসকিউ ড্রোন’