ভালোবাসা ও প্রজন্মের বন্ধনে গ্রিফিনস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দাদু-ঠাকুমা দিবস উদযাপন!
নিজস্ব সংবাদদাতা : দাদু-ঠাকুমা ও নাতি-নাতনিদের অমূল্য সম্পর্ককে সম্মান জানিয়ে গ্রিফিনস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আন্তরিকতা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হল দাদু-ঠাকুমা দিবস। ভালোবাসা, স্নেহ, প্রজ্ঞা ও মূল্যবোধ দিয়ে পরিবারের ভিতকে শক্ত করে তোলা প্রবীণ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার সামাল এবং প্রধান শিক্ষিকাসোনালী মহানন্দা উপস্থিত দাদু-ঠাকুমা ও নানা-নানিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ইউকেজি-বি বিভাগের ছাত্র অগ্নিবেশ মণ্ডলের স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

এরপর খুদে পড়ুয়াদের মনোমুগ্ধকর স্বাগত নৃত্য ও হৃদয়স্পর্শী বাংলা আবৃত্তি উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যক্ষ শ্রী প্রদীপ কুমার সামাল শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে দাদু-ঠাকুমা ও নানা-নানিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের ভালোবাসা, অভিজ্ঞতা, মূল্যবোধ ও জীবনবোধ কীভাবে নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে, সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

এরপর একে একে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় পড়ুয়ারা। সুমধুর হিন্দি গান ও আকর্ষণীয় ইংরেজি আবৃত্তির পাশাপাশি নার্সারির খুদে পড়ুয়াদের প্রাণবন্ত নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। এলকেজি ও ইউকেজির ছাত্রছাত্রীদের উদ্যমী রেট্রো নৃত্যেও ছিল উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এলকেজির পড়ুয়াদের পরিবেশিত বিশেষ ধন্যবাদজ্ঞাপনমূলক নৃত্য, যা তাঁরা তাঁদের প্রিয় দাদু-ঠাকুমা ও নানা-নানিদের উদ্দেশে উৎসর্গ করে।

ইউকেজি-সি বিভাগের ছাত্র দেবাংশ রাজের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে। এরপর প্রবীণ অতিথিদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজিত হয় বিভিন্ন মজার খেলা। খেলায় অংশ নিয়ে দাদু-ঠাকুমা ও নানা-নানিরা আনন্দে মেতে ওঠেন। হাসি, উচ্ছ্বাস ও পারস্পরিক ভালোবাসায় অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

সব মিলিয়ে গ্রিফিনস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এই আয়োজন ছিল শুধুমাত্র একটি দিবস উদযাপন নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক সুন্দর উদ্যোগ। প্রবীণদের গল্প, অভিজ্ঞতা, স্নেহ ও মূল্যবোধ যে নতুন প্রজন্মের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই উঠে আসে।