বর্ষার আগেই নিকাশী সংস্কারের দাবি, সেচ দপ্তরে হলদিয়া নিকাশী সংস্কার কমিটি
নিজস্ব সংবাদদাতা :শিল্পনগরী হলদিয়ার জলবন্দী সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের দাবিতে এবার সরব হল হলদিয়া নিকাশী সংস্কার কমিটি। আগামী বর্ষার আগেই হলদিয়া শিল্পাঞ্চল-সহ সুতাহাটা ও হলদিয়া ব্লকের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নিকাশী খাল ও স্লুইশগেটের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং সামগ্রিক নিকাশী ব্যবস্থার জন্য মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের দাবিতে তমলুকের সেচ দপ্তরে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি জমা দিল সংগঠনটি।পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, হলদিয়া নিকাশী সংস্কার কমিটির সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ দাস, যুগ্ম সম্পাদক নিখিলেশ নারায়ণ দোলুই ও শ্যাম সুন্দর দাস, উপদেষ্টা ফণীভূষণ চক্রবর্তী এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শংকর প্রসাদ মান্না-সহ অন্যান্যরা।ডেপুটেশনের সময় সেচ দপ্তরের তমলুকের এসডিও সৈনভ সিনহা এবং গেঁওখালি সেকশনের সেকশনাল অফিসার তন্ময় বড়াল উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের প্রতিনিধিরা হলদিয়ার নিকাশী ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি, দীর্ঘদিন ধরে খাল ও স্লুইশগেট সংস্কার না হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যা এবং সাম্প্রতিক জলবন্দী পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরেন।হলদিয়া নিকাশী সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে মূলত পাঁচটি দাবি জানানো হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—প্রথমত, ‘নো কস্ট’ পদ্ধতিতে নয়, সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগ ও ব্যয়ে আগামী বর্ষার আগেই এলাকার প্রধান নিকাশী খাল এবং তার শাখা খালগুলির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হবে।দ্বিতীয়ত, নদীর সঙ্গে সংযোগকারী সমস্ত খালের মুখে থাকা অকেজো স্লুইশগেটগুলি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।তৃতীয়ত, একাধিক স্লুইশগেট যুক্ত লকগেটগুলিকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত জল নিষ্কাশন করা যায়।চতুর্থত, শিল্পাঞ্চলে একাধিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে শিল্প সংস্থাগুলির বর্জ্য মিশ্রিত জল পরিশোধনের পর নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রিন বেল্ট খাল-সহ কোনও নিকাশী খালেই যাতে রাসায়নিক বা দূষিত শিল্পবর্জ্য ফেলা না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।পঞ্চমত, শিল্পাঞ্চল ও কৃষি অঞ্চলকে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের সেচ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমীক্ষা করিয়ে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়ে হলদিয়ার নিকাশী ব্যবস্থার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টার প্ল্যান তৈরি ও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

ডেপুটেশনের পর সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি ও সমস্যার গুরুত্বের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। আগামী ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক নিম্নচাপের জেরে অতিবৃষ্টিতে হলদিয়া পৌরসভা, সুতাহাটা ও হলদিয়া ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জল জমে ছিল। সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশী খাল, স্লুইশগেট ও লকগেটগুলির যথাযথ সংস্কার না হওয়া এবং বিভিন্ন খালের ভিতরে একাধিক অবৈধ নির্মাণ গড়ে ওঠার কারণে জল নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলেই বর্ষার জল দীর্ঘ সময় ধরে জমে থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বর্ষা আসার আগেই স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে নিকাশী ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে হলদিয়া নিকাশী সংস্কার কমিটি।