মুকুন্দপুরে উত্তেজনা, হুমায়ুন কবীরকে মারধরের অভিযোগ

মুকুন্দপুরে উত্তেজনা, হুমায়ুন কবীরকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা : পার্টি অফিস দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকা। পূর্ব যাদবপুর থানার সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভকে ঘিরে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই থানার সামনেই প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে মুকুন্দপুরে পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। মিছিল চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, তাদের এক কর্মী মিছিলের ভিডিয়ো রেকর্ড করছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরী অভিযোগ করেন, মিছিলের মধ্যে তাঁর ওড়না ও পোশাক টেনে হেনস্থা করা হয়েছে। কয়েকজন দলীয় নেতা-কর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে পূর্ব যাদবপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।সন্ধ্যার দিকে আটক দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে পূর্ব যাদবপুর থানায় পৌঁছন হুমায়ুন কবীর-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা। সেখানেই বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলে অভিযোগ। হুমায়ুন কবীরের দাবি, আচমকাই কয়েকজন তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। ঘটনায় তাঁর শরীর থেকে রক্ত বেরিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, থানায় ঢোকার জন্য তিনি পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। এরপরই তাঁকে টেনে বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। নিজের দীর্ঘ পুলিশি চাকরির অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, কোনও বিজেপি কর্মী তাঁকে মারধর করেননি। পায়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার কারণেই তিনি আহত হয়েছেন বলে পাল্টা দাবি বিজেপির।এদিকে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন বিজেপি কর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মুকুন্দপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার সামগ্রিক দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।