অভিজিৎ সাহা: বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় যান লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেখানেই তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিঠি তুলে দেন।চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আহ্বান জানান। তিনি বার্তায় উল্লেখ করেন, “ভারতে আপনার জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছে।”বাংলাদেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া সূত্রের খবর, এই আমন্ত্রণকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে ঢাকা। যদিও সরকারিভাবে এখনো কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিএনপি সূত্রে জানা গিয়েছে—ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করার পক্ষেই মত রয়েছে। দলীয় মহলে মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই সম্ভাব্য সফরসূচি চূড়ান্ত হতে পারে।অতীতের টানাপোড়েন, নতুন প্রত্যাশা শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মুখে পড়ে। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন আমলে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ভারত-বিরোধী মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছিল বলে কূটনৈতিক মহলের অভিমত।তবে তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসদমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নতুন করে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।ওম বিড়লার বার্তা:ঢাকায় সাক্ষাতের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন,
“বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একটি গঠনমূলক বৈঠক করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেছি, যেখানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছি এবং দুই দেশের স্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।”দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়?বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে সমন্বয়—এই সফরের মূল আলোচ্য হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।