Skip to content

ভোটের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি বাড়াতে উদ্যোগ কেন্দ্রের!

নিজস্ব সংবাদদাতা : চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক প্রচারে তুঙ্গে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার। মাঠে-ময়দানের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও জোরদার লড়াই চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে ভুয়ো ও ক্ষতিকারক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা মূলত Ministry of Electronics and Information Technology-এর হাতেই সীমাবদ্ধ। তবে সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী Ashwini Vaishnaw।একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। তারা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে, যার মূল লক্ষ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ও ক্ষতিকারক পোস্ট দ্রুত চিহ্নিত করে ব্লক করা। এই প্রস্তাবে কীভাবে ব্লকিংয়ের ক্ষমতা অন্যান্য মন্ত্রকের মধ্যে ভাগ করা যায়, তার বিস্তারিত রূপরেখা থাকবে।মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যবহারকারী যাচাই না করেই বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করে দেন, যার ফলে ভুয়ো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সেগুলি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু যদি এই ক্ষমতা অন্যান্য মন্ত্রকের কাছেও থাকে, তাহলে ক্ষতিকারক কনটেন্ট আরও দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।এছাড়া, আইটি আইন সংশোধন না করেই কীভাবে এই ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।তবে এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন। সমালোচকদের আশঙ্কা, ‘ক্ষতিকারক কনটেন্ট’-এর নামে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্টও কি ব্লক করা হবে? একই সঙ্গে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ভুয়ো খবর রোখা সহজ হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব কীভাবে পড়ে দেশের ডিজিটাল পরিসরে।

Latest