অভিজিৎ সাহা: উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র এবার সাক্ষী হতে চলেছে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক লড়াইয়ের। একই ঠাকুর পরিবারের দুই সদস্য—একদিকে ননদ, অন্যদিকে বৌদি—এবার মুখোমুখি ভোটের ময়দানে। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন বর্তমান বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর, যিনি রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে। অপরদিকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয়েছে সোমা ঠাকুরের, যিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী। এই পারিবারিক লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মতুয়াগড়ের রাজনীতি।মঙ্গলবার বিজেপির চতুর্থ প্রার্থী তালিকায় সোমা ঠাকুরের নাম প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক অঙ্ক। মতুয়া অধ্যুষিত বাগদায় ঠাকুরবাড়ির প্রভাবকে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষ করে মতুয়া ভোট যে এই কেন্দ্রে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।প্রার্থী ঘোষণার পরই আক্রমণাত্মক সুরে সোমা ঠাকুর বলেন, “এবার শুধু বাগদা নয়, গোটা বাংলা থেকেই তৃণমূলকে বিদায় দেওয়ার সময় এসেছে।” তাঁর দাবি, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রের নয়, পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে গোটা রাজ্যের জন্য। বিজেপির অন্দরে কিছু অসন্তোষের খবর থাকলেও মতুয়া মহিলা সংগঠনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, নিজের বৌদির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মধুপর্ণা ঠাকুর। তাঁর বক্তব্য, “পারিবারিক সম্পর্ক নিজের জায়গায়, কিন্তু রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা। এতদিন একতরফা ছিল, এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ কথা বলবে বাগদার মানুষ, আর জিতবে সবুজ আবির।” তৃণমূল শিবিরের দাবি, উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পর মধুপর্ণার জনভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই শুধু দুই প্রার্থী বা দুই পরিবারের সদস্যের মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের উপর প্রভাব প্রতিষ্ঠার এক বড় পরীক্ষা। পরিবারের ভিতরের এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।