নিজস্ব সংবাদদাতা : নতুন বছরের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইজরায়েল। শনিবার সকালে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও মিসাইল হামলার অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েল ও আমেরিকা-র বিরুদ্ধে। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।পাল্টা প্রত্যাঘাতে ইরান আঘাত হানে আমেরিকার মিত্র দেশগুলিতে। অভিযোগ, কুয়েত, বাহরিন, ইরাক ও জর্ডন-সহ একাধিক দেশে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উত্তেজনা এতটাই চরমে যে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা আরব ও সংলগ্ন অঞ্চলে ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত করেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে চলেছে ক্রীড়াজগতেও। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ বসার কথা আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা-য়। কিন্তু সেই বিশ্বকাপ নিয়েই বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ইরান ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে।

উত্তেজনার আগুন মাঠের বাইরে : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রশ্নে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবে বয়কটের হুঁশিয়ারি যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান সত্যিই সরে দাঁড়ায়, তবে তা কেবল ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক মহলেও বড় বার্তা বহন করবে। কারণ বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল নয়, এটি আন্তর্জাতিক ঐক্য ও কূটনীতিরও প্রতীক।

চাপে ফিফা : ফিফার উপর চাপ বাড়ছে দুই দিক থেকে—একদিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব। সংগঠনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “ফিফা সবসময় ক্রীড়াকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করে। তবে সদস্য দেশগুলির উদ্বেগও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।” যদি পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়, তাহলে গ্রুপ বিন্যাস, সূচি ও বাণিজ্যিক চুক্তি—সবকিছুতেই বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্ব ফুটবলে অনিশ্চয়তা : ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়ার শক্তিশালী ফুটবল দলগুলির অন্যতম। তাদের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক মানেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশও রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।বিশ্বকাপের মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন দেশ রাজনৈতিক কারণে ক্রীড়া ইভেন্ট বয়কট করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যে বিশ্ব ফুটবলের জন্য বড় পরীক্ষার সময়, তা বলাই যায়।

সামনে কী ? সব নজর এখন ইরান ও ফিফার পরবর্তী ঘোষণার দিকে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দ্রুত শান্ত না হয়, তাহলে ফুটবলের মহাযজ্ঞেও অস্থিরতার ছাপ পড়তে বাধ্য। খেলার মাঠে গোলের লড়াইয়ের আগে এখন বড় প্রশ্ন—রাজনীতির ছায়া কি বিশ্বকাপের উজ্জ্বল আলোকে ম্লান করে দেবে?