নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবশেষে দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের জটিলতার অবসান। রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে মৃত্যুজনিত এককালীন ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পেল গোপীবল্লভপুরের নির্মল মান্ডির পরিবার। প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা প্রাপ্য অর্থ আইনি সহায়তার ফলে দ্রুত মিটে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মল মান্ডি রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের নথিভুক্ত উপভোক্তা ছিলেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ৬০ বছরের মধ্যে কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর উত্তরাধিকারীরা ২ লক্ষ টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী। সেই নিয়ম মেনেই নির্মল মান্ডির ছেলে পরিমল মান্ডি গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তার (ADA) দফতরে আবেদন করতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে জানানো হয়, মৃত কৃষকের নামে জমির কম্পিউটারাইজড রেকর্ড জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়।সমস্যা তৈরি হয় সেখানেই। পরিবারের কাছে নির্মল মান্ডির নামে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর (BL&LRO) কর্তৃক দেওয়া হাতে লেখা প্রত্যায়িত পাট্টা জমির নথি থাকলেও, কম্পিউটারাইজড রেকর্ড ছিল না।

পরিমল জানান, বাবার জমির ডিজিটাল রেকর্ড পেতে তিনি একাধিকবার BL&LRO-সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করেন এবং বহুবার অফিসে ঘোরেন। তবুও কোনও সমাধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁদের ব্লকের ‘অধিকার মিত্র’ রীতা দাস দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।রীতা দাস দত্তের সহায়তায় পরিমল মান্ডি ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন জানান। সেই আবেদনের ভিত্তিতে একটি প্রি-লিটিগেশন মামলা রুজু করেন বিচারক। এরপর নোটিস পাঠিয়ে গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের BL&LRO-কে শুনানিতে ডাকা হয়। দ্বিতীয় শুনানির দিনেই নির্মল মান্ডির নামে জমির কম্পিউটারাইজড রেকর্ড তৈরি করে দেয় সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর।ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদী মামলার নিষ্পত্তি করেন। শুনানির দিন পরিমল জানান, আগের দিন ব্যাঙ্ক পাসবুক আপডেট করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের মোট ২ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা এবং দুই ভাইয়ের নামে ৫০ হাজার টাকা করে পৌঁছে গিয়েছে। আবেগঘন কণ্ঠে পরিমল বলেন, “ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের জন্যই আমাদের প্রায় তিন বছরের সমস্যার দ্রুত সমাধান হল। আমরা আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য পেলাম।”এই ঘটনা আবারও দেখাল, প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।