চক-ডাস্টারের গণ্ডি পেরিয়ে অভিনব শিক্ষাদান, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের শান্তনু পাত্র

চক-ডাস্টারের গণ্ডি পেরিয়ে অভিনব শিক্ষাদান, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের শান্তনু পাত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা : শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্থানীয় সংস্কৃতি, আঞ্চলিক ভাষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে এক অভিনব শিক্ষাপদ্ধতির নজির তৈরি করেছেন নয়াগ্রাম গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক শান্তনু পাত্র। তাঁর ছকভাঙা শিক্ষাদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।শান্তনুবাবুর শিক্ষাদানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো। প্রকৃতির মাঝে গিয়ে পরিবেশ, বন্যপ্রাণ, ভূমিক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাতে-কলমে শেখান তিনি। শুধু পাঠ্যবই নয়, স্থানীয় সংস্কৃতিকেও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছেন তিনি। পটচিত্র, ঝুমুর এবং বাহা গানের মতো লোকসংস্কৃতিকে ব্যবহার করে পড়ুয়াদের কাছে পাঠকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন এই শিক্ষক। স্কুলে তৈরি করেছেন ‘Digital Hub’, ‘Discussion Platform’ এবং ‘Creation Centre’। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা, আলোচনা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।শুধু পড়াশোনা নয়, স্থানীয় সম্পদ ও পরিবেশবান্ধব জীবিকার সঙ্গেও পড়ুয়াদের পরিচয় করিয়েছেন তিনি। বাবুই ঘাস ও তালপাতা দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি, জৈব সার উৎপাদনের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাপান ও গুজরাটের পড়ুয়াদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।২০১৭ সাল থেকে নয়াগ্রাম গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলে শিক্ষকতা করছেন শান্তনু পাত্র। দীর্ঘদিনের এই অভিনব শিক্ষাপদ্ধতি এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাওয়ায় গর্বিত ঝাড়গ্রামের শিক্ষামহল থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ তুলে দেবেন। ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার এক শিক্ষকের ছকভাঙা ভাবনা ও নিরলস প্রচেষ্টার এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে এক গর্বের মুহূর্ত।