অরিন্দম চক্রবর্তী : ভক্তিময় পরিবেশে ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খড়গপুর জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব। সোমবার (২৯ জুন) ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করে।সকাল ৭টায় মঙ্গল আরতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার বিগ্রহকে স্নানবেদিতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় সূর্যপূজার পর প্রাচীন রীতি মেনে পৃথকভাবে ঘি, মধু, দই, দুধ ও পবিত্র জল দিয়ে তিন দেবদেবীর মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়।

স্নানপর্বের পর শাস্ত্রবিধি অনুসারে বিগ্রহগুলিকে গোপনীয়ভাবে বিশেষ 'গজবেশ' (হাতির রূপে বিশেষ শৃঙ্গার) পরানো হয় এবং ভোগ নিবেদন করা হয়। এরপর দেবতাদের বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়।
বিকেল ৪টায় পুনরায় মন্দিরের দ্বার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা আরতি। আরতি শেষে শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহকে পুনরায় গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্নানযাত্রার পর ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী শ্রীজগন্নাথদেব 'অসুস্থ' বা 'অনবাসর'-এ থাকেন। সেই কারণে আগামী ১৫ দিন মন্দিরের গর্ভগৃহ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সময়ে দেবতাদের বিশেষ পরিচর্যা করা হবে এবং পরে নবযৌবন দর্শনের মাধ্যমে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেবেন মহাপ্রভু।স্নানযাত্রা উপলক্ষে খড়গপুর জগন্নাথ মন্দিরে এদিন কয়েক হাজার ভক্ত সমবেত হন। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভক্ত মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সমগ্র উৎসব সম্পন্ন করতে মন্দির কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।