নিজস্ব সংবাদদাতা :নিজস্ব সংবাদদাতা : খড়্গপুরের নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক চণ্ডীচরণ ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ আট বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী দীপক কুমার দাশগুপ্ত।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে সুজয় হাজরা একটি সুপরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি দলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে এবার তাঁর নাম জড়াল একটি বিতর্কিত অভিযোগের প্রসঙ্গে।খড়্গপুরের নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক চণ্ডীচরণ ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে সরব ছিলেন সমাজসেবী দীপক কুমার দাশগুপ্ত। তাঁর দাবি, প্রায় আট বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে তিনি বারবার তৎকালীন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর বা কার্যকর পদক্ষেপ পাননি। দীপক কুমার দাশগুপ্তের অভিযোগ, নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক বিষয় তিনি লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আনেন। সেই সূত্রে তিনি সুজয় হাজরার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ফের প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা দফতর ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।দীপকবাবুর অভিযোগ, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল পরিচালনায় অনিয়ম, ভর্তি প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে তিনি ২০১৮ সালে জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নিজের মেয়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।তাঁর দাবি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর মেয়ে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। বিজ্ঞান বিভাগের ফর্ম পূরণ এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি না নিয়ে কলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, কলা বিভাগের জন্য নতুন করে কোনও আবেদনপত্র পূরণ না করলেও বিভিন্ন ফি, এমনকি সরস্বতী পূজার চাঁদাও পুনরায় নেওয়া হয়। পরে প্রায় দুই মাস পর তাঁকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করা হলেও পূর্বে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।এই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা শাসকের নির্দেশে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) দফতর একটি তদন্তকারী দল স্কুলে পাঠায়। তদন্তকারী দল বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে একটি রিপোর্টও জমা দেয় বলে জানা যায়। তবে সেই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হয়েছে, বা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আজও জানতে পারেননি বলে দাবি দীপকবাবুর।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি জানতে তিনি একাধিকবার তথ্য জানার অধিকার আইনের (আরটিআই) মাধ্যমে আবেদন করেছেন। জেলা শাসকের গ্রিভান্স সেল থেকেও সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে তাঁর অভিযোগ।দীপক কুমার দাশগুপ্তের বক্তব্য, তাঁর লড়াই কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। তিনি শুধু জানতে চান, তাঁর অভিযোগের তদন্তে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিক্ষা দফতর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দফতর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।অভিযোগকারীর আরও বক্তব্য, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক চণ্ডীচরণ ত্রিপাঠীর সঙ্গে সুজয় হাজরার পরিচিতি ছিল এবং সেই কারণেই অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত বা নিষ্পত্তি হয়নি কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।