অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়গপুর শহরের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার সরাসরি বিজেপি ও তাদের প্রার্থী দিলীপ ঘোষকে নিশানা করল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার খড়গপুর শহর তৃণমূল কোর কমিটি এবং শহর তৃণমূল কমিটির উদ্যোগে সেটেলমেন্টের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেতৃত্ব।বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, খড়গপুরের উন্নয়ন নিয়ে তারা একজোট হয়ে প্রশ্ন তুলছেন দিলীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে। তৃণমূলের অভিযোগ, খড়গপুরের বিধায়ক ও সাংসদ থাকার পরও দিলীপ ঘোষ শহরের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি। ২০১৬ সালে জয়ের পর রবীন্দ্র ইন্সটিটিউটে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়ন আজও অধরাই রয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়।তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, “কাঁসাই নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে, কিন্তু ২০২৬ সালেও খড়গপুরের উন্নয়নের চিত্র একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।” গোলবাজার, গেট বাজার, নয়াবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে এখনও বহু দোকানে বিদ্যুতের সংযোগ নেই। অ্যাসবেস্টসের ছাদ দিয়ে জল পড়া ও চুরির মতো সমস্যাও নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ।রেল এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করলেও, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রেল বস্তিগুলিতে পানীয় জল, রাস্তা, শৌচালয় ও পথবাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়, দিলীপ ঘোষ বা বিজেপির অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের কোটায় বস্তি এলাকায় কী উন্নয়ন করেছেন।বৈঠক থেকে দিলীপ ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও সরব হয় তৃণমূল। অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারে তিনি “গুলি করে দেব” মন্তব্য করেছেন এবং এক ওয়ার্ডে গিয়ে মা-বোনদের অসম্মানজনক ভাষায় উল্লেখ করেছেন। তৃণমূলের কটাক্ষ, “খড়গপুরে যারা উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন কথা বলার সাহস দেখান।”এছাড়াও রেল ওয়ার্কশপে কর্মীসংখ্যা হ্রাস, নতুন নিয়োগের অভাব, রেলের হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট—এই সব বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হয়। যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়েও বিজেপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি তৃণমূলের।পরিবেশ দূষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও বিজেপির দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, একদিকে দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা হলেও, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে।অন্যদিকে, তৃণমূল নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজের তালিকাও তুলে ধরে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী, বিনামূল্যে রেশন—এই সব প্রকল্পের পাশাপাশি খড়গপুরে আইসিইউ হাসপাতাল, নতুন স্টেডিয়াম, খাস জমির সমস্যা সমাধান, মহকুমা আদালত চালু এবং ইলেকট্রিক চুল্লি স্থাপনের মতো একাধিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।খড়গপুরের পৌরপ্রধান প্রদীপ সরকার জানান, “আমি পৌরপ্রধান ও দেড় বছর বিধায়ক থাকার সময়ে খড়গপুরের উন্নয়নের জন্য এই কাজগুলি করেছি। আগামী নির্বাচন উন্নয়নের ভিত্তিতেই হোক, সেটাই আমরা চাই।”