Skip to content

খড়গপুরে শতবর্ষের ঐতিহ্য—সোলাপুরি মাতার পূজায় ভরসা রোগমুক্তি ও বিশ্বাসের!

খড়গপুর শহরের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হল সোলাপুরি মাতা বা আম্মাভারীর পূজা। শহরের তেলেগু সম্প্রদায়ের কাছে এই দেবী অত্যন্ত পূজিত ও শ্রদ্ধেয়। মূলত দেবী দুর্গার এক রূপ হিসেবে মানা হয় আম্মাভারীকে, যিনি শিশুদের হাম-বসন্ত, চিকেনপক্সের মতো রোগ থেকে রক্ষা করেন বলে বিশ্বাস। খড়গপুরের খরিদা বিধানপল্লী এলাকায় এই পূজার ইতিহাস ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। শুধু এই এলাকাই নয়, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়। ভক্তদের মতে, গ্রীষ্মকালে যখন তাপমাত্রা চরমে ওঠে এবং জলবসন্ত বা চিকেনপক্সের প্রকোপ বাড়ে, তখনই দেবীর আরাধনার মাধ্যমে সেই রোগব্যাধি থেকে মুক্তির প্রার্থনা জানানো হয়।

এই পূজাকে ঘিরে রয়েছে এক গভীর বিশ্বাস—দেবীর প্রতিমা শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে স্থাপন করার পর থেকেই নাকি আবহাওয়ার তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করে। ফলে পরিবেশে এক ধরনের শীতলতা ফিরে আসে, যা রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে বলে মনে করেন ভক্তরা।এই উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল হলুদের ব্যবহার। দেবীর প্রতিমা সম্পূর্ণভাবে হলুদ বাটা দিয়ে তৈরি করা হয় এবং দেবীর শৃঙ্গারেও হলুদই প্রধান উপাদান। পূজার সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানেও হলুদের উপস্থিতি অপরিহার্য। প্রধান পুরোহিত থেকে শুরু করে তাঁর সহকারী ‘বটুক’রা—সকলেই পূজার সময় নিজেদের শরীরে হলুদ মেখে নেন।

May be an image of temple

ভক্তদের মধ্যেও এই প্রথা প্রচলিত। অনেকে দেবীর প্রতিমা সাজানোর হলুদ নিজেদের শরীরে মাখেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে শরীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পায় এবং জলবসন্তের মতো রোগ থেকে সুরক্ষা মেলে।উৎসব কমিটির সদস্যদের মতে, প্রতিমা স্থাপনের পর প্রতিদিন দেবীর বিভিন্ন রূপের পূজা করা হয়।

May be an image of one or more people and people dancing

সেই সঙ্গে বিশ্বাস করা হয়, দেবীর কৃপায় সূর্যের প্রখরতা কিছুটা প্রশমিত হয়, যার ফলে তাপমাত্রা কমে এবং রোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।সব মিলিয়ে, সোলাপুরি মাতার এই পূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি খড়গপুরের তেলেগু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ঐক্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

Latest