কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। মৃতদের মধ্যে সাত বছরের এক শিশু-সহ একাধিক কিশোর-কিশোরী রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পরই পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন), ১১০ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা) এবং ৩(৫) ধারায় (একই অভিপ্রায়ে একাধিক ব্যক্তির অপরাধমূলক কাজ) মামলা রুজু করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা (৪৮), সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে (৫৫), বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরির কাজে যুক্ত বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ওরফে জয় (৪৮), ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা (৫৩) এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভিআইপি পাস পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা পিন্টু দে (৫১)।

এ ছাড়াও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী সুমন চক্রবর্তী (৩০) ও রাজেশ পাল (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ঘটনার দিন শনিবার রাতেই ১৪ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে লালবাজারের নির্দেশ অনুযায়ী রবিবার সকাল থেকে চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।উৎসবের আনন্দের মধ্যে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও বেরোনোর পথের ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে কোথায় ত্রুটি ছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হবে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই।