ইডি দফতর থেকে বেরোতেই কলকাতা পুলিশের হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন!

ইডি দফতর থেকে বেরোতেই কলকাতা পুলিশের হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে বুধবার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ হেফাজতে নিয়েছে। এদিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরই তাঁকে গাড়িতে তুলে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ ইডির দফতরে পৌঁছন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী। তাঁকে ঘিরে সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। বিকেল ৫টা ৬ মিনিট নাগাদ দফতর থেকে বেরোতেই তাঁকে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরা।

কী অভিযোগ রয়েছে? তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির ক্ষেত্রে সংস্থাটি ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করেছিল। এই সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেন এবং তাঁদের সহযোগীদের যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। ইউনেস্কোর সঙ্গে অনুমোদিত সম্পর্ক থাকার দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।এই ঘটনায় বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, পাস বিক্রি করে কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ : ইন্দ্রনীল সেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর দাবি, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত পদক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ইন্দ্রনীল সেন একা এই কাজ করেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতার কথাও উল্লেখ করেন।রাজনৈতিক বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জেলে যেতে হবে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর তোলা অভিযোগের সত্যতা এই মামলার তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি।ইন্দ্রনীল সেনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। একই মামলায় ইডির তদন্তও চলছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n