Skip to content

‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’কে হাতিয়ার করেই ছাব্বিশের যুদ্ধ: বন্ধ নয়, আরও টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিজেপির

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা :  ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি। এসআইআর ইস্যুর পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে ফের উঠে এসেছে এক পরিচিত শব্দবন্ধ— ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। একসময়ে যে প্রকল্প রাজ্য রাজনীতিতে সামাজিক সুরক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, এবার তা সরাসরি ভোট-অঙ্কের অস্ত্র।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রচারের মূল ন্যারেটিভ স্পষ্ট— বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। বিধানসভা ভোটের প্রচারে এই বার্তাকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে শাসক দল। কিন্তু সেই দাবিকে সম্পূর্ণ উল্টে দিতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।

বিজেপির পাল্টা বার্তা আরও জোরালো— বন্ধ নয়, বরং লক্ষ্মীর ভান্ডারে আরও বেশি টাকা দেওয়া হবে। চাকদহে এক সভা থেকে এই ইস্যুতে ফের সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ বক্তব্য, “লক্ষ্মীর ভান্ডার আমরা আরও ভাল দেব।” শুধু বক্তব্যেই থেমে থাকেননি তিনি, তুলে ধরেছেন বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ।

শুভেন্দুর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী,

  • ওড়িশায় মহিলাদের বছরে একবার এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়,
  • দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা মাসে ২,৫০০ টাকা,
  • হরিয়ানায় বিজেপি সরকার দেয় ২,১০০ টাকা,
  • মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সরকার দেয় ২,০০০ টাকা

এই তুলনামূলক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বিজেপির স্পষ্ট বার্তা— রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সামাজিক প্রকল্পে খরচ কমবে না, বরং বাড়বে। তৃণমূলের “বিজেপি এলে প্রকল্প বন্ধ” প্রচারকে ভাঙতেই এই কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ছাব্বিশের ভোটে লক্ষ্মীর ভান্ডার আর শুধুই একটি প্রকল্প নয়— এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার লড়াই। কে রাখবে, কে বাড়াবে, আর কে সত্যিই মহিলাদের পাশে থাকবে— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বঙ্গের রাজনৈতিক সংঘাত।

Latest