Skip to content

গৃহবধূকে খুন—আইনজীবী স্বামী সহ চারজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, সাড়া বনগাঁ আদালতের রায়!

নিজস্ব সংবাদদাতা : উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ আদালতে গৃহবধূ প্রিয়া সেন বিশ্বাস ওরফে ইতু হত্যাকাণ্ডে যুগান্তকারী রায়। আইনজীবী স্বামী রথীন্দ্রনাথ সেন, তাঁর শ্বশুর রবীন্দ্রনাথ সেন, শাশুড়ি সুপ্তারানি সেন এবং দেওর রজত সেন—চারজনকেই গৃহবধূ খুনের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। শুক্রবার বনগাঁ আদালতের বিচারক (এডিজে–১) কল্লোল কুমার দাস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আদালত চত্বর ও স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শুধু হত্যার দায়েই নয়, আদালত বধূ নির্যাতনের মামলাতেও চারজনকে তিন বছরের জেল, এবং এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের অতিরিক্ত সাজা দিয়েছেন। ফলে চারজনেরই গোটা জীবন জেলেই কাটতে চলেছে। উল্লেখ্য,২০২২ সালের ৮ এপ্রিল বনগাঁ থানার শক্তিগড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় গৃহবধূ প্রিয়া সেন বিশ্বাসের নিথর দেহ। প্রথম থেকেই মৃতার পরিবার অভিযোগ তোলে—এটি আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত শ্বাসরোধ করে খুন। ঘটনার পরদিনই প্রিয়ার মা মমতা বিশ্বাস বনগাঁ থানায় তাঁর মেয়ের স্বামীসহ শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ।

অভিযুক্ত স্বামী।

পুলিশের তদন্ত, ফরেনসিক রিপোর্ট ও সাক্ষ্যপ্রমাণে স্পষ্ট হয়—প্রিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। প্রমাণের ভারে আদালতে ধরা পড়ে চার অভিযুক্তের ভূমিকা। এতদিন ধরে চলা সওয়াল জবাবে সবপক্ষেরই যুক্তি খতিয়ে দেখেন বিচারক। যদিও শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে বৃহস্পতিবারই দোষী সাব্যস্ত হয় চার অভিযুক্ত। এরপরই শুক্রবারই হয়ে গেল সাজা ঘোষণা। রায়ের কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রিয়ার মা মমতা বিশ্বাস। চোখে জল নিয়েই বলেন, “আমার মেয়েকে তো আর কোনওদিন ফিরে পাব না। তবে খুনিরা শেষ পর্যন্ত সাজা পেয়েছে। এতেই আমি খুশি।”  স্থানীয় মহলেও এই রায়কে ‘নারী নির্যাতন ও গৃহ-সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা’ বলে মনে করা হচ্ছে।

Latest