পুলিশের গাড়িতে লরির ধাক্কা, দাঁতনে মৃত মহিলা হোমগার্ড,আহত ৩
নিজস্ব সংবাদদাতা :পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার নেকুড়সেনিতে খড়গপুর–বালেশ্বর ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলা হোমগার্ডের। দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মৃতের নাম ভারতী মুর্মু। তিনি পুলিশ বিভাগের হোমগার্ড পদে কর্মরত ছিলেন।জানা গিয়েছে, দাঁতন থানার অন্তর্গত মনোহরপুর হাই স্কুলের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র নেকুড়সেনি পোস্ট অফিসে জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছিল। সেই গাড়িটিকে স্কোয়াড করে পুলিশের একটি প্রাইভেট গাড়িও নেকুড়সেনি পোস্ট অফিসের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় পিছন দিক থেকে বেলদাগামী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের গাড়িটিতে ধাক্কা মারে।জোরালো ধাক্কায় পুলিশের গাড়িতে থাকা এক মহিলা হোমগার্ড-সহ চারজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেলদা ও দাঁতন থানার পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পুলিশ বিভাগের হোমগার্ড পদে কর্মরত ভারতী মুর্মুর।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটির জন্য পুলিশ লাইন থেকে ওই দিন ঘটনাস্থলে এসেছিলেন ভারতী। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুলিশ মহল এবং পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছান নারায়ণগড় বিধানসভার বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি। সেখানে মৃত হোমগার্ডের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজখবর নেন বিধায়ক। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।ঘটনার জেরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্য ছড়ায়। লরিটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ কী—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর জাতীয় সড়কে যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।