নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমুখী একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে প্রকাশিত এই ইস্তেহারে কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, নারী নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে— আয়করদাতা নন এমন পরিবারগুলিকে মাসে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। বামফ্রন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ২২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে এই ইস্তেহারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পরিবারের একজনের জন্য স্থায়ী চাকরি, পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ এবং প্রতি বছর স্বচ্ছতার সঙ্গে এসএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা আয়োজনের আশ্বাস। পাশাপাশি, যুব সমাজকে সমাজসেবা ও উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করে ভাতা প্রদানের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। নারী নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করে প্রতিটি জেলায় ‘স্বশাসিত অভয়া বাহিনী’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বামেদের দাবি, এই বাহিনী নির্যাতিতাদের দ্রুত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে। একইসঙ্গে নারীদের ক্ষমতায়ন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী বৃদ্ধি এবং নির্যাতনের শিকারদের আইনি সহায়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রবীণদের জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা’ প্রকল্প চালুর পাশাপাশি দরিদ্র বয়স্ক নাগরিকদের মাসিক ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বর্তমানে মহিলা ও যুবদের যে ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তা বন্ধ করা হবে না বলেও স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন,"ভাষা, ধর্ম ও বর্ণের নামে বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই একমাত্র বিকল্প।" পাশাপাশি ইস্তেহার প্রকাশের পর সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান,"অনেক বৈধ ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। অনেকে বলেন, মুসলমানের ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। কিন্তু শুধু মুসলমান ভোটার নয়, মুসলমান ভোটারের পাশাপাশি অনেক হিন্দু ভোটারদেরও নাম কাটা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যা করছে অন্যায় কাজ করছে। মোথাবাড়ি ও কালিয়াচকের ঘটনায় সন্দেহের গন্ধ পাচ্ছি।"রাজনৈতিক মহলের মতে, সামাজিক ভাতা, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং নারী নিরাপত্তার মতো সরাসরি জনসংযোগমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে বামফ্রন্ট। এখন দেখার, এই ‘জনমুখী ইস্তেহার’ ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।