Skip to content

দারিদ্র্যকে হারিয়ে IPL মঞ্চে মঙ্গেশ যাদব, ট্রাক ড্রাইভারের ছেলে আজ কোহলিদের দলে!

মঙ্গেশ যাদব।

নিজস্ব সংবাদদাতা : আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন Royal Challengers Bengaluru দুর্দান্ত সূচনা করেছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে জয়ের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছে বিরাট কোহলি-রজত পাটিদারের দল। বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পাডিক্কলের অর্ধশতরান, সঙ্গে অধিনায়ক রজত পাটিদারের ঝোড়ো ইনিংস—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বেঙ্গালুরু শিবির। কিন্তু ম্যাচের জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও যে নামটি আলাদা করে আলো কেড়েছে, তিনি হলেন বাঁ-হাতি তরুণ পেসার মঙ্গেশ যাদব। আরসিবি তাঁকে আইপিএলের মিনি নিলামে ৫.২ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে, আর সেই মুহূর্ত যেন শুধু এক ক্রিকেটারের নয়, এক সংগ্রামী পরিবারের স্বপ্নপূরণের ইতিহাস। মধ্যপ্রদেশের বরগাঁওয়ের সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা মঙ্গেশের জীবনের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানায়। তাঁর বাবা রামঅবধ যাদব, পেশায় এক জন ট্রাকচালক। ভোর ৩টেয় ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় ট্রাক নিয়ে বেরিয়ে পড়া, কখন বাড়ি ফিরবেন তার নিশ্চয়তা নেই—এই কঠিন জীবনের মধ্যেই ছেলের ক্রিকেট স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে, মঙ্গেশের কোচিং, ক্রিকেট কিট, যাতায়াত—সব কিছুর খরচ তুলতে বাবাকে ঋণ পর্যন্ত নিতে হয়েছে। বহু রাত না ঘুমিয়ে শুধু একটা চিন্তাই তাঁকে তাড়া করেছে—“ছেলের স্বপ্নটা যেন ভেঙে না যায়।” এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই আজ মঙ্গেশকে পৌঁছে দিয়েছে আইপিএলের আলো ঝলমলে মঞ্চে। পেশাদার ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার আগে মঙ্গেশ টেনিস বল টুর্নামেন্টে খেলতেন। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ থেকে ছত্তীসগঢ়—অসংরক্ষিত ট্রেন কামরা আর সরকারি বাসে চেপে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে খেলেছেন। সামান্য অর্থ উপার্জন করলেও তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি ছিল বাবার কাছে আর টাকা না চাওয়া। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। নয়ডার ওয়ান্ডার ক্রিকেট ক্লাবে কোচ ফুলচাঁদ শর্মা তাঁর প্রতিভা চিনে নেন। তিন বছরের হস্টেল ফি মকুব করে দেন। সেই সুযোগই মঙ্গেশের ক্রিকেট জীবনের ভিত শক্ত করে। মঙ্গেশ নিজেও স্বীকার করেছেন, কোচের সাহায্য না পেলে হয়তো তিনি কখনও এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন না। ২০২৫ সালের মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে গ্বালিয়র চিতাসের হয়ে মাত্র ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন তিনি। এরপরই একাধিক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির নজরে চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজেদের ভবিষ্যতের বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয় আরসিবি। আজ মঙ্গেশের সাফল্যে শুধু তাঁর পরিবার নয়, গর্বিত গোটা দেশ। এক ট্রাকচালক বাবার ঘাম, ত্যাগ আর ছেলের নিরলস পরিশ্রম মিলে তৈরি হয়েছে এই অনুপ্রেরণার গল্প। ক্রিকেট মাঠে তাঁর প্রতিটি ডেলিভারির সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে হাজারো সংগ্রামী পরিবারের স্বপ্ন।

Latest