Skip to content

বাবা জেলে, সংসারে ঋণের পাহাড়—সেই ঘর থেকেই উঠে এল আইপিএলের ম্যাচ উইনার মুকুল!

মুকুল চৌধারী

নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বৃহস্পতিবার রাতে যেন নতুন এক তারকার জন্ম দেখল আইপিএল। লখনউ সুপার জায়ান্টস যখন ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৪/৫-এ ধুঁকছে, ঠিক তখনই ক্রিজে নামেন রাজস্থানের ঝুনঝুনুর তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুকুল চৌধারী। আর তারপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। মাত্র ২৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে লখনউকে ৩ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। তবে এই ইনিংসের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বাবার দীর্ঘ ত্যাগ, সংগ্রাম আর অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। মুকুলের বাবা দলীপ চৌধারী ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন তাঁর সন্তান ক্রিকেটার হবে। বিয়ের আগেই তিনি ঠিক করে ফেলেছিলেন—যদি ছেলে হয়, তাকে ক্রিকেটারই বানাবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে ছেলেকে শৈশবের প্রথম ১০ বছর শারীরিকভাবে গড়ে তোলার দিকে জোর দেন তিনি। ঝুনঝুনু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে সিকারের SBS ক্রিকেট অ্যাকাডেমি-তে মুকুলকে ভর্তি করান দলীপ। রাজস্থানের প্রশাসনিক পরিষেবা পরীক্ষায় টানা ছয় বছর ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় নামেন। পরে হোটেল ব্যবসা শুরু করতে একের পর এক ঋণ নেন—ব্যাঙ্ক, ভাই ও বন্ধুর কাছ থেকে মোট প্রায় ৩ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যবসা সফল হয়নি। জমি সংক্রান্ত জটিলতা, আর্থিক চাপ, এমনকি জেল পর্যন্ত যেতে হয় তাঁকে।দলীপের কথায়, “আমার নিজের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল, তাই ঠিক করেছিলাম ছেলের স্বপ্নটাই পূরণ করব। যত কষ্টই হোক, ওকে ক্রিকেটার বানাবই।” আজ সেই লড়াইয়েরই প্রতিদান পেল চৌধারী পরিবার। আইপিএলের আলো ঝলমলে মঞ্চে মুকুলের ব্যাটে শুধু লখনউর জয়ই আসেনি, উঠে এসেছে এক মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের অদম্য জেদের গল্পও। জেল, ঋণ, অপমান—সব কিছুর ওপরে উঠে এক বাবার স্বপ্ন এখন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর অনুপ্রেরণা।

Latest