ষাট বছরের গৌরবময় পথচলার পরিসমাপ্তি, হীরক জয়ন্তীতে নতুন প্রত্যয় নাড়াজোল রাজ কলেজের!

ষাট বছরের গৌরবময় পথচলার পরিসমাপ্তি, হীরক জয়ন্তীতে নতুন প্রত্যয় নাড়াজোল রাজ কলেজের!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ষাট বছরের গৌরবময় শিক্ষাযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এক বছর ধরে নানা শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচির পর শনিবার নাড়াজোল রাজ কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হল হীরক জয়ন্তী বর্ষ। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৬০তম প্রতিষ্ঠাবর্ষে পদার্পণ করেছিল। সেই দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি ও আগামী দিনের নতুন প্রত্যয়কে সামনে রেখে এদিন কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় বর্ণময় সমাপন অনুষ্ঠান।অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মনীষীদের মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়।

এরপর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে কলেজের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান।হীরক জয়ন্তী সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ISBN-যুক্ত গবেষণা-সংকলন ‘ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা : এক অনন্ত যাত্রা’-র প্রকাশ। ভারতীয় জ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও সমাজভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে এই সংকলনে ৩৪ জন অধ্যাপক-অধ্যাপিকার গবেষণামূলক প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি প্রকাশিত হয় কলেজের বার্ষিক নিউজ লেটার।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. বাসুদেব মণ্ডল

উপস্থিত ছিলেন সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়গ্রামের উপাচার্য অধ্যাপিকা ড. চন্দ্রদীপা ঘোষ,চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুকান্ত দোলই, দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্ত-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা।এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল চতুর্থ রানি অঞ্জলি খান স্মারক বক্তৃতা। বক্তা হিসেবে অধ্যাপিকা ড. চন্দ্রদীপা ঘোষ ভারতীয় জ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় সংগীত এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ ও ‘স্টুডেন্টস উইক’-এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে কৃতিত্ব অর্জনকারী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক আশিস ভট্টাচার্য।প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষাকর্মী, পরিচালন সমিতির সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এদিন কলেজ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। ষাট বছরের ঐতিহ্যকে পাথেয় করে শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়েই শেষ হল নাড়াজোল রাজ কলেজের হীরক জয়ন্তী বর্ষ।