নেপালে হড়পা বানের তাণ্ডব, নিখোঁজ কলকাতার ৩২ পর্যটক—উদ্বেগে পরিবার, জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান!

নেপালে হড়পা বানের তাণ্ডব, নিখোঁজ কলকাতার ৩২ পর্যটক—উদ্বেগে পরিবার, জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান!

নিজস্ব সংবাদদাতা : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর নিখোঁজ কলকাতার ৩২ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পর্যটক এবং কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার দুই কর্মী রয়েছেন। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে গত ২১ অগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিলেন তাঁরা। পরদিন, ২২ অগস্ট নেপালে পৌঁছন।

কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।ভ্রমণ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ জন পর্যটকের দলে একজন ভারতীয় নাগরিক হলেও তিনি আমেরিকা থেকে এসেছিলেন।

মঙ্গলবার দলের এক সদস্য কাঠমান্ডু থেকে ছবি পাঠিয়েছিলেন। এরপর বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরনোর জন্য দলটি রাসুয়াগাধিতে পৌঁছয়। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁরা ইমিগ্রেশন অফিসে ছিলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হড়পা বানের তাণ্ডব শুরু হয়। প্রবল জলের স্রোতে এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই দলের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।ঘটনার খবর পেয়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকেও উদ্ধার তৎপরতার চেষ্টা করা হয়।

হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেটি সেখানে অবতরণ করতে পারেনি।এদিকে, নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে ভোতে কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।

তাঁদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় রয়েছেন বলে নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি। এখনও পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৪৬টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং অন্তত ৯৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) রয়েছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে গিয়েছিলেন। এছাড়াও নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ ভোতে কোশি নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। এর জেরে রাসুয়া ও ধাদিঙ জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যার প্রভাব ধাদিঙ, নুয়াকোট এবং চিতওয়ান জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল জলের স্রোতে একাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্ট তুষারধস থেকে গলে যাওয়া বরফের জল ভোতে কোশি নদীতে নেমে আসার ফলেই এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় রাসুয়া অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা পর্যটক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তল্লাশি অভিযান চলছে। একইসঙ্গে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটক ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি যোগাযোগের নম্বরও প্রকাশ করেছে।

সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি নম্বর ১২৩৪, হটলাইন ১১৪৪ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের নম্বর ৯৮৫১২৮৯৪৪৫। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা পর্যটকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি সরকারি সূত্রে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রশাসনের সমস্ত নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।