জীববৈচিত্র্য ও জার্মপ্লাজম সংরক্ষণে নতুন দিশা, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ আলোচনা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ, বনভূমি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের জেরে ক্রমশ চাপের মুখে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে জীববৈচিত্র্য ও জার্মপ্লাজম সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ বক্তৃতা ও আন্তঃক্রিয়ামূলক আলোচনা।বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Biodiversity and Germplasm Conservation Centre (BGCC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল “Biodiversity and Germplasm Conservation: Present Status in India with Special Reference to West Bengal”। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন BGCC-এর Director তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের Botany & Forestry বিভাগের Professor অমল কুমার মণ্ডল।অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মানস ভৌমিক, Scientist-F এবং Head of Office, AJC Bose Indian Botanic Garden।

দীর্ঘ গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ভারতের জীববৈচিত্র্য ও জার্মপ্লাজম সংরক্ষণের বর্তমান পরিস্থিতি, বিভিন্ন সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর দীপক কুমার কর। উদ্বোধনী পর্বে BGCC-এর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন Prof. Amal Kumar Mondal। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা এবং জনসচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এই কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।স্থানীয় ও আঞ্চলিক উদ্ভিদসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় প্রজাতির জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্যের নথিভুক্তিকরণ এবং শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।Prof. Mondal বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সুন্দরবন থেকে পাহাড়, জঙ্গলমহল থেকে উপকূলীয় অঞ্চল—রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব জীববৈচিত্র্য। এই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।বিশেষ বক্তৃতায় Dr. Manas Bhoumik জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা এবং জার্মপ্লাজম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রাকৃতিক সম্পদের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির সংরক্ষণ, উদ্ভিদ জিনসম্পদের গুরুত্ব এবং seed conservation, living collections, botanical gardens ও field gene banks-সহ আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।পশ্চিমবঙ্গের উদ্ভিদসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ botanical repositories-এর সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ড. ভৌমিকের মতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে শুধুমাত্র বনাঞ্চল বা সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সক্রিয়ভাবে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।প্রায় দুই ঘণ্টার এই বিশেষ বক্তৃতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় interactive session। শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন Dr. Bhoumik। ফলে অনুষ্ঠানটি বক্তৃতার গণ্ডি পেরিয়ে একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক আলোচনায় পরিণত হয়।অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। Botany, Zoology, Geography, Remote Sensing-সহ বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রী ও গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মী এবং বাইরে থেকে আসা বিজ্ঞানী ও গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।