Skip to content

মেদিনীপুরে রাজনৈতিক শোরগোল, ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রভাবশালী মুখ!

সেখ ওয়ারেশ আলী : ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গনি ইসমাইল মল্লিককে। একই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার কোতোয়ালি থানার পুলিশ গনি ইসমাইল মল্লিককে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা আদালতের কাছে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই আবেদন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গনি ইসমাইল মল্লিকের বিরুদ্ধে অতীতে আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

রাজনৈতিক মহলে তিনি খড়গপুর গ্রামীণের তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এদিকে, গনি ইসমাইল মল্লিককে আদালতে আনা হয়েছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেদিনীপুর আদালত চত্বরে জড়ো হন বহু মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ডিম দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গনি ইসমাইল মল্লিকের প্রভাব ছিল অত্যন্ত দাপুটে এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, এলাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা সমালোচনা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হতো।

এমনকি মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আইনে ফাঁসানোর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়ে এসেছেন।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গনি ইসমাইল মল্লিকের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণে তাঁর সম্পত্তির উৎস ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র তদন্তের দাবিও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে গনি ইসমাইল মল্লিক বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Latest