খড়গপুর পৌরসভায় পৌরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, ১৫ তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বাক্ষর!
অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়গপুর পৌরসভায় ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। পৌরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তৃণমূলের ১৫ জন কাউন্সিলর। প্রাক্তন পৌরপ্রধান তথা কাউন্সিলর প্রদীপ সরকারের নেতৃত্বে ওই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বুধবার দুপুরে ১৫ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর করা অনাস্থার চিঠি পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং পৌরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের হাতে তুলে দেন প্রদীপ সরকার-সহ বিদ্রোহী কাউন্সিলররা। যদিও অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি পৌরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ।অনাস্থা প্রসঙ্গে প্রদীপ সরকার অভিযোগ করেন, বর্তমান পৌরপ্রধান নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ। তাঁর দাবি, পৌরপ্রধানের সঙ্গে কাউন্সিলরদের কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ সরকারের আরও দাবি, সাধারণ মানুষকে দেওয়ার মতো ত্রিপল পৌরসভায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে রয়েছে, কোথাও জল জমে থাকছে। সামনে দুর্গাপুজো হলেও শহরের বিভিন্ন পরিষেবা ও পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে কাউন্সিলররা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাঁর।তিনি বলেন, শুধু কাউন্সিলররাই নন, সাধারণ মানুষও পৌর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই ১৫ জন কাউন্সিলর পৌরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে বোর্ড মিটিং ডেকে আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে পৌরপ্রধানকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক, অথবা নতুন পৌরপ্রধান নির্বাচনের দাবি জানান তাঁরা।একই সঙ্গে খড়গপুর শহরের উন্নয়নে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রদীপ সরকার। তাঁর বক্তব্য, বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, সাংসদ জুন মালিয়া, রেল ও আইআইটি-সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে শহরের উন্নয়নে নতুনভাবে কাজ করা প্রয়োজন।অন্যদিকে, শহর তৃণমূল নেতা তথা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবিতা দেবনাথের স্বামী পিংকা দেবনাথ বলেন, সামনে পৌরসভা নির্বাচন। তার আগে এই বিষয়টি বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গেলে ভালো হত। তিনি জানান, শহরের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম-সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।পৌরপ্রধানের বিরুদ্ধে ১৫ জন কাউন্সিলরের অনাস্থা ঘিরে খড়গপুর পৌরসভায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত। আগামী দিনে আস্থা ভোট হলে কোন পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।