ট্রেন দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন! মোটরসাইকেলের চাবির সূত্রে রহস্যভেদ বেলদা পুলিশের!
সেখ ওয়ারেশ আলী : খুন করে মৃতদেহ রেললাইনের ধারে ফেলে রেখে ঘটনাটিকে ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা! কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেই ভেস্তে গেল সেই ছক। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার সাঞ্যাপাড়া এলাকায় রেললাইনের ধারে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম শুভকান্ত বস্তিয়া। তাঁর বাড়ি ওড়িশার ভুবনেশ্বরে। বুধবার সকালে জাতীয় সড়কের পাশে রেললাইনের ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে ঘটনাটি ট্রেন দুর্ঘটনা কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে বেলদা থানার পুলিশ।

তদন্তে নেমে মৃতের পকেট থেকে একটি মোটরসাইকেলের চাবি উদ্ধার করে পুলিশ। সেই চাবিই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। চাবির সূত্র ধরে দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সনাতন দলুই নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বাড়ি ঝাড়েশ্বর এলাকায়।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শুভকান্তকে খুন করার পর তাঁর দেহ রেললাইনের ধারে ফেলে রাখা হয়েছিল। এরপর ঘটনাটিকে ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে সন্দেহ পুলিশের।

২৬ তারিখ বুধবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সাংবাদিক বৈঠকে গোটা ঘটনার কথা জানান। তিনি বলেন, মৃত যুবকের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের চাবি তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে। সেই সূত্র ধরেই দ্রুত অভিযুক্তের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।তবে খুনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার পিছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, মোটরসাইকেলের সঙ্গে খুনের কী যোগসূত্র এবং ঠিক কী কারণে যুবককে খুন করা হল—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।