নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিশেষ পর্যালোচনা (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৭ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ তালিকাতেও এই সংখ্যা উঠে এসেছে।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, নাম বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র দু’জনের আপিল ট্রাইবুনালে শুনানি হয়েছে। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে— এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক আপিলের নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না।নির্বাচনী অধিকার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, “এক বারের ভোট নয়, এখানে গুরুত্ব বেশি ভোটাধিকারের”। কারণ ভোটার তালিকা থেকে একটি নাম বাদ পড়া মানে শুধু একটি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সরাসরি প্রভাব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার বহু সাধারণ মানুষ এখনও নিজেদের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি জানতে পারেননি বলেও অভিযোগ উঠছে।রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে, এই বিপুল বাদ পড়া নামের মধ্যে বহু প্রকৃত ভোটারও থাকতে পারেন। আদালত ও ট্রাইবুনালের উপর তাই চাপ বাড়ছে দ্রুত এবং স্বচ্ছ শুনানি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য। ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালত ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ভোট কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি নাগরিকের সাংবিধানিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অস্তিত্বের প্রতীক। তাই ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ার ঘটনা নিছক পরিসংখ্যান নয়, বরং রাজ্যের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
এক বারের ভোট নয়, গণতন্ত্রের অধিকারের লড়াই: ৬০ লক্ষ ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদে বাড়ছে উদ্বেগ