অভিজিৎ সাহা: ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের বিশেষ পর্যালোচনা (SIR) ঘিরে যখন দেশজুড়ে জোর তৎপরতা, ঠিক তখনই আধার ডেটাবেসেও শুরু হয়েছে ‘ভূত’ খোঁজার বড়সড় অভিযান। মৃত ব্যক্তিদের নামে এখনও সক্রিয় থাকা আধার নম্বর চিহ্নিত করে তা নিষ্ক্রিয় করার কাজে নেমেছে UIDAI। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পরিচয় জালিয়াতি ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।সূত্রের খবর, মৃত ভোটারদের তালিকার সঙ্গে আধার ডেটা মিলিয়ে দেখার উদ্যোগও চলছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যালোচনায় বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যে বহু মৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় উঠে এসেছে। সেই কারণেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এদের অনেকের আধার নম্বরও হয়তো এখনও সক্রিয় রয়েছে। দুই ডেটাবেস মিলিয়ে ‘ডুপ্লিকেশন’ ও সম্ভাব্য অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য, শেষ ৬ মাসে নিষ্ক্রিয় হয়েছে ২.৫ কোটিরও বেশি আধার নম্বর, যার বড় অংশই মৃত ব্যক্তিদের নামে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত যত আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় হয়েছিল, তার তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ের অভিযান অনেক দ্রুত ও বিস্তৃত। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সংসদে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে ডেটাবেস পরিশুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই অভিযান নিয়মিত চলছে।আধার সরাসরি নাগরিকত্বের প্রমাণ না হলেও, বর্তমানে ব্যাঙ্কিং, ভর্তুকি, পেনশন, সরকারি প্রকল্প থেকে শুরু করে অসংখ্য পরিষেবায় এটি অপরিহার্য। ফলে মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর সক্রিয় থাকলে তা পরিচয় জালিয়াতি, ভুয়ো কেওয়াইসি, এমনকি সরকারি সুবিধা তোলার মতো প্রতারণায় ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। এই কারণেই UIDAI এখন ডেটাবেস স্যানিটাইজেশনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।UIDAI জানিয়েছে, শুধু ডেটা মিলিয়ে নিষ্ক্রিয় করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে এমন সমস্যা কমে, তার জন্য Civil Registration System-এর মৃত্যু নথির সঙ্গে আধার ডেটা আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করার কাজও চলছে। এর ফলে মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হওয়ার পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হবে।ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাখতে মৃতদের ‘ভূত আধার’ চিহ্নিত করার এই অভিযান আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভোটার তালিকার পর এবার আধারেও ‘ভূত’ ধরার অভিযান, মৃতদের ২.৫ কোটির বেশি আধার নিষ্ক্রিয় UIDAI-এর!