নেপালের ভয়াবহ হড়পা বাণের পর নিখোঁজ দুর্গাপুরের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় পরিবার!
নিজস্ব সংবাদদাতা : নেপালে আচমকা নেমে আসা বিধ্বংসী হড়পা বাণের জেরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন দুর্গাপুরের তপোবন সিটির বাসিন্দা এক দম্পতি। তাঁদের কোনও খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীরা।নিখোঁজ ওই দম্পতি হলেন তপোবন সিটির ৫২ নম্বরের ৯-ডি টাওয়ারের বাসিন্দা অরিন্দম গাঙ্গুলি এবং তাঁর স্ত্রী মৌসুমী গাঙ্গুলি। দুজনেই ডিভিসি-র অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তাঁদের একমাত্র মেয়ে অঙ্কিতা বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত।পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন গাঙ্গুলি দম্পতি। ওই দলে দুর্গাপুরের মোট ছয়জন বাসিন্দা ছিলেন। গত ২১ আগস্ট দুর্গাপুর থেকে যাত্রা শুরু করে ২২ আগস্ট কলকাতা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।ভ্রমণসূচি অনুযায়ী, প্রথম দু’দিন কাঠমান্ডুতে থাকার কথা ছিল তাঁদের। মঙ্গলবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল অরিন্দম ও মৌসুমীদেবীর। এমনকি তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও পোস্ট দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে আচমকাই তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।দুর্গাপুরের এই দম্পতির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তৎপর হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কাঁকসা ব্লকের মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ তপোবন সিটিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।উল্লেখ্য, বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভারত-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বাণ নামে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সংস্থার তরফে এই বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। বিপর্যয়ের জেরে বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।পরিবার সূত্রে খবর, নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাপথের একাধিক ভারতীয় পর্যটকও রয়েছেন। নেপাল সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।