নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা ভোটের প্রচারে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় জনসভা করলেন তৃণমূল নেত্রী Mamata Banerjee। নারায়ণগড়ের এই সভা থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। মমতার কথায়, “ওরা বলছে চারটে তালিকা নাকি বেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু আমি একটাও চোখে দেখতে পাইনি। স্পষ্টই চক্রান্ত চলছে।”সভামঞ্চ থেকে মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জেলা স্বাধীনতা আন্দোলনের গর্বিত ভূমি।

তাঁর বক্তব্য, “মেদিনীপুর সংগ্রামের মাটি, আন্দোলনের মাটি। স্বাধীনতার আগেই এখানে স্বাধীন সরকার গঠিত হয়েছিল। এখানকার প্রতিটি রাস্তাঘাট আমার চেনা। অতীতে সিপিএম এখানে বহু খুন ও অত্যাচার চালিয়েছে।”

দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও এদিন বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে কোনও আর্থিক সাহায্য করেনি। মমতার বক্তব্য, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য এক টাকাও দেয়নি। আমরা নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যেই দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।”এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-র ‘চার্জশিট’ মন্তব্য নিয়েও পাল্টা কটাক্ষ শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি বলেন, “প্রথম চার্জশিট তো মোদী আর অমিত শাহের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। অশান্তি তৈরি করেই ওঁরা ক্ষমতায় এসেছে।” পাশাপাশি প্রশাসনে রদবদল নিয়েও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “ভাল ভাল অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছিলেন।”বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগে নোটবন্দির জন্য মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, আর এখন ভোটবন্দির জন্য।

বিজেপির জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই এই চক্রান্ত।”রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কখনও ধর্ম, বর্ণ বা জাতির ভিত্তিতে বিভাজন করে না। তাঁর কথায়, “এখানে কোনও শর্ত নেই, সকলেই সুবিধা পান। যাঁরা এখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি, তাঁদের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। সবাই পেয়ে যাবেন।”নারায়ণগড়ে প্রার্থী পরিবর্তন নিয়েও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

তিনি বলেন, “একটি আসনে একজনকেই টিকিট দেওয়া যায়। কখনও সংখ্যালঘু, কখনও মহিলা—সকলকেই সুযোগ দিতে হয়। টিকিট না পেলেই বিরোধিতা নয়, দল সবার জন্য। ভাল কাজ করলে ভবিষ্যতে সুযোগ অবশ্যই মিলবে।”রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে বেলদার এই সভা থেকে মমতার বার্তা স্পষ্ট—দলীয় ঐক্য বজায় রেখে উন্নয়ন ও জনমুখী প্রকল্পকে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চাইছে তৃণমূল।