অভিজিৎ সাহা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনা রোডের পরিমল কানন প্রাঙ্গণ রবিবার রঙে, সুরে ও নৃত্যের ছন্দে মুখরিত হয়ে উঠল। নৃত্যম্ কলা মন্দিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব। প্রতিষ্ঠানের ১৩ বছরের গৌরবময় সাংস্কৃতিক পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এদিন আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান, যা এলাকাবাসীর কাছে এক আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।বসন্তের আবাহনে সাজানো হয়েছিল সমগ্র প্রাঙ্গণ। আবিরের রঙ, ফুলের সাজ ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় উৎসবের আবহ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

নৃত্যম্ কলা মন্দিরের প্রায় ১০টি শাখার ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। প্রায় ২৫০ জন ছাত্রী একের পর এক নৃত্য, গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। ছোট্ট শিল্পীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা ও শৈল্পিক দক্ষতা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন গড়বেতা থানার ওসি চঞ্চল সিংহ। তিনি বক্তব্যে সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এমন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা রোড বিট হাউসের আইসি অরুন গোপ, ডাবচা নবোকোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ মুখার্জি, সিদ্ধেশ্বর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী অনির্বাণ পাল ও প্রসেনজিৎ বোস, সমাজসেবী সন্দীপ সিংহ, মানস নায়েক, রাজীব ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁরা সকলেই নৃত্যম্ কলা মন্দিরের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি ও উৎসাহ শিল্পীদের পরিবেশনায় নতুন উদ্দীপনা যোগায়।

নৃত্যম্ কলা মন্দিরের অধ্যক্ষা তিলোত্তমা নন্দী বলেন, “সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও উপস্থিতিই আমাদের এই বসন্ত উৎসবকে সার্থক করে তুলেছে। আগামী দিনেও আমরা সংস্কৃতির এই ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। পাশাপাশি সমাজের জন্যও কিছু করার আগ্রহ আমাদের রয়েছে।”১৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সংস্কৃতির প্রতি অগাধ ভালোবাসাই আজ নৃত্যম্ কলা মন্দিরকে একটি সুপরিচিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বসন্ত উৎসব সেই পথচলারই এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল।