অভিজিৎ সাহা : সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। প্রশাসনকে আরও জনমুখী ও সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলছে বিভিন্ন জেলায়। তারই অংশ হিসেবে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-৩ ব্লকের চন্দ্রকোনা রোডের গৌরব গুইন মেমোরিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে সকাল থেকেই দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা, আবেদনপত্র জমা দেওয়া, নথি যাচাই এবং বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য শিবিরে উপস্থিত হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি কাউন্টারে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয় যাতে উপভোক্তারা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পরিষেবা পেতে পারেন।

সরকারের দাবি, মানুষের আর বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই। এক ছাদের নিচেই মিলছে একাধিক সরকারি প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবার সুবিধা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১০০টি স্থানে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

এই শিবিরের মাধ্যমে মোট ৫৫ ধরনের সরকারি পরিষেবা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম-কিষাণ যোজনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে আবেদন ও নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজনীয় তথ্যও প্রদান করা হচ্ছে।

শিবির পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান মাহাতো। তিনি বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে পরিষেবার মান খতিয়ে দেখেন এবং উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তুফান মাহাতো এবং সাধারণ সম্পাদক গৌতম কৌড়ি। তাঁরা শিবিরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এক জায়গায় এতগুলি সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ফলে সময় ও অর্থ—দু'টিই সাশ্রয় হচ্ছে। ফলে জনকল্যাণ শিবিরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনবে।