অভিজিৎ সাহা: পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করলেন বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধা। বুধবার সকালে তিনি গড়বেতার ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারপর্বের শুভ সূচনা করেন। এরপর সোজা পৌঁছে যান ভারতের প্রাচীন প্রশাসনিক ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল নাম সূর্য কুমার অগস্তির জন্মভিটেতে। গড়বেতার সর্বমঙ্গলা মন্দির স্থানীয় ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।জন্মভিটার মাটি মাথায় তুলে প্রতীকী শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন তিনি।
সেখানেই প্রদীপ লোধা বলেন, “সূর্য কুমার অগস্তির মতো এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব আজও প্রাপ্য সম্মান পাননি। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থান অবহেলায় পড়ে রয়েছে। আমি জয়ী হলে গড়বেতার প্রবেশপথে দুটি তোরণ নির্মাণ করা হবে—একটি সূর্য কুমার অগস্তির নামে, অন্যটি মা সর্বমঙ্গলার নামে।”

স্থানীয় ইতিহাসচর্চায় সূর্য কুমার অগস্তিকে অবিভক্ত বাংলা-বিহার-ওড়িশার কৃতী প্রশাসকদের অন্যতম বলে মনে করা হয়। তিনি ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোর উচ্চপদে কাজ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন। সেই সময়কার প্রশাসনিক কাঠামো ছিল Indian Civil Service-কেন্দ্রিক, যা পরবর্তী IAS ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।শুধু প্রশাসনেই নয়, গড়বেতার শিক্ষার প্রসারেও তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।

স্থানীয়দের মতে, তাঁর উদ্যোগেই গড়বেতায় ইংরেজি শিক্ষার ভিত মজবুত হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা গড়বেতার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপ নেয়। পাশাপাশি সাহিত্য, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। Bangiya Sahitya Parishad-এর সভায় তাঁর বক্তৃতা সে সময় বিশেষ প্রশংসিত হয়েছিল।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এত বড় মাপের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতি আজও সেভাবে সংরক্ষিত হয়নি। ফলে এবারের গড়বেতার নির্বাচনী লড়াইয়ে উন্নয়নের পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে।এখন বড় প্রশ্ন—গড়বেতার এই গর্ব, সূর্য কুমার অগস্তির অবদান কি শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য মর্যাদা পাবে? নাকি ভোটের ময়দানেই সীমাবদ্ধ থাকবে ইতিহাসের এই পুনরাবিষ্কার?