অভিজিৎ সাহা : পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর এলাকায় ফের এক আলু চাষির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অভিজিৎ নন্দী (৩৭)। ঘটনাটি ঘটেছে আনন্দপুর থানার অন্তর্গত রেনুয়াড় মৌজায়। গত দুই সপ্তাহে জেলায় এই নিয়ে তিনজন আলু চাষির মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় নিজের আলুর জমি দেখতে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। পরে মাঠে গিয়ে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তড়িঘড়ি উদ্ধার করে Midnapore Medical College and Hospital-এ নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, কীটনাশক পান করেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি।পরিবারের দাবি, প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ঋণের চাপ ছিল অভিজিতের উপর। দিনরাত পরিশ্রম করেও আলু চাষে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। যেখানে এক কুইন্টাল আলুর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, সেখানে বস্তার খরচই প্রায় ৯০ টাকা—ফলে লাভের বদলে ক্ষতিই বেড়েছে। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি ও পচন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।মৃতের স্ত্রী বাসন্তী নন্দী ১২ বছরের সন্তানকে নিয়ে গভীর শোকে স্তব্ধ। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে স্থানীয় শাসকদলের পক্ষ থেকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও বহু জমিতে আলু পড়ে রয়েছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। বাজার ফড়েদের নিয়ন্ত্রণে, আর হিমঘরগুলিও প্রায় ভর্তি—ফলে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এ প্রসঙ্গে All India Kisan Sabha-র রাজ্য সম্পাদক Meghnad Bhuiya জানান, আলু রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং সহায়ক মূল্যে সরকারি ক্রয় না হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাঁর দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।জানা গিয়েছে, জেলায় প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ ফসল মাঠেই পড়ে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন।