আন্তর্জাতিক যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে গর্বিত করল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার খুদে প্রতিভা!

আন্তর্জাতিক যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে গর্বিত করল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার খুদে প্রতিভা!

অভিজিৎ সাহা : আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগাসনে সোনা জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার খুদে প্রতিভা সনম খাতুন। থাইল্যান্ডে আয়োজিত এশিয়া প্যাসিফিক যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে দেশে ফিরতেই তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মাতলেন গ্রামের মানুষ। খুদে খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি শোভাযাত্রা করে বাড়ি পৌঁছে দেন স্থানীয়রা।ইউনিভার্সাল যোগা স্পোর্টস ফেডারেশনের উদ্যোগে গত ৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া প্যাসিফিক যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপ।

থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখানেই সাব-জুনিয়র বিভাগে ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের মোহনপুর গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সনম খাতুন।

৫ সেপ্টেম্বর নিজের যোগাসন দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সোনার পদক জয় করে সনম। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত খুদে এই খেলোয়াড়। আগামী দিনে আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের হয়ে সাফল্য অর্জন করাই তার লক্ষ্য।সনমের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা সাব্বির আলি।

তিনি নিজেও একজন যোগা প্রশিক্ষক। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাছেই ছোটবেলা থেকে যোগাসনের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে সনম।সাব্বির আলি বলেন, “আমার লক্ষ্য মেয়েকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই লক্ষ্যেই ছোট থেকেই তাকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছি।”মেয়ের আন্তর্জাতিক সাফল্যে খুশি পিংলার সাধারণ মানুষও। মঙ্গলবার সনম বাড়ি ফিরবে জানতে পেরে ডেবরার বালিচকে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানেই খুদে যোগা প্রতিভাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর ঢাকঢোল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে সনমকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর মোহনপুরের বাড়িতে।খুদে সনমের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে এখন গর্বিত গোটা পিংলা। তাঁর হাত ধরেই আগামী দিনে যোগাসনের আরও বড় মঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।